রাজপথের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে নারী সার্জেন্ট

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

রওনক আরা জেসমীন


নগরীর রেলগেট মোড়ে কর্তব্যরত এক নারী সার্জেন্ট যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করছেন-সোনার দে

রাজশাহীর রাজপথে হাত উঁচু করে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করছেন পুরুষ সার্জেন্ট, এটি একটি সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু যখন একজন নারী সার্জেন্ট মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরছেন এবং সড়কের পাশে বড় বড় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র দেখছেন, সমস্যা দেখলে মামলা ঠুকে দিচ্ছেন, এমন দৃশ্য এতদিন ছিল কল্পনা। নগরীর কামারুজ্জামান চত্বরে এমনি দৃশ্য চোখে পড়লো। একজন নারী সার্জেন্ট গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করছেন।
বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে ক্রমেই বাড়ছে নারীদের প্রাধান্য। চ্যালেঞ্জিং এই পেশায় তারা এখন পৌঁছে গেছেন শীর্ষ পদে। তবে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে নারীরা প্রবেশ করে ২০১৪ সালে। তবে রাজশাহীতে এই প্রথম চারজন নারী সার্জেন্ট নিয়োগ হয়। যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক পাস, অবিবাহিত। সাথে মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষতা ও কম্পিউটারে অভিজ্ঞতা। পুরুষ সার্জেন্টদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে সড়কে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, রাজশাহী ট্রাফিক বিভাগে চারজন নারী এই প্রথম সার্জেন্ট পদে নিয়োগ পেয়েছেন। মাত্র এক মাস পূর্বে তারা এখানে যোগদান করেন। অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, নারীরাও যে পুরুষদের সমগুণ সম্পন্ন তা তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন তাদের কাজেই। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় তাদের দেখে অনেক নারীরা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। যা দেশে নারীর ক্ষমতায়নে অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) হাসিবুল বেনজির জানান, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে দেশের কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি সেক্টরে নারীদের সুযোগ দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে সার্জেন্টে পদে নারীদের পদচারণা খুব অল্প দিন আগে ঘটলেও পুরুষ সদস্যদের সমপর্যায়েই তারা কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করছেন। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সড়কপথে অপরাধ দমন কার্যক্রম তারা খুব দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করছে। যা খুবই প্রশংসনীয় এবং নারী অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে ট্রাফিক সেক্টরে নারী সার্জন্টদের জন্য অনেক সুবিধা হচ্ছে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট ইয়াসমিন জানান, ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল এই চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসার। পড়াশোনা শেষে তাই সুযোগও হয়ে গেল এই পেশাতেই। যার জন্য আমি খুবই আনন্দিত। তিনি বলেন, এই পেশাটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমি খুবই উপভোগ করি। এই পদে আমার আরো তিন জন সহকর্মী রয়েছেন। আমি চাই যে, আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এই পেশায় আরো নারীরা যোগদান করুক।