রাজপাড়া এলাকায় সামাজিক মালিকার জমি দখলের পাঁয়তারা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজপাড়া এলাকায় সামাজিক মালিকার জমি দখলের পাঁয়তারা

এটি ছিল পীর পালের সম্পত্তি। এটি হিন্দু জমিদারেরা মুসলীম সম্প্রদায়ের জন্য দিয়ে গেছেন। সামাজিক মালিকানার এই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে একটা চক্র। ভেড়িপাড়া মোড়ের পশ্চিম দিকে পিটিআই এর উল্টেদিকে প্রায় তিন কোটি টাকার এই সম্পত্তি দখলের জন্য এখানে বসানো হয়েছে একটি সাইন বোর্ড। হেলেনাবাদ দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ছয় কাঠা জমিতে ওই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, এই জমির মালিক রাজপাড়া মহল্লার বাসিন্দাগন। জমিটি বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে। অর্জিত অর্থ দরিদ্র দুস্থদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা খাতে, দাফন কাজে, বিয়ে সাদীর কাজে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিনা সুদে ঋণ দেয়া হবে। এছাড়া প্রতি বছর মহল্লাবাসীর বিদেহী আত্ম্ার জন্য দোয়া করা হবে। প্রয়োজনে উপরোক্ত খাতের পরিবর্তন করা হবে।
এই জায়গাতে কিছুদিন আগে ছিল একটি অস্থায়ী মসজিদ। কেশবপুর ভেড়িপাড়া জামে মসজিদ নির্মান কাজ চলায় ওই অস্থায়ী মসজিদটি স্থাপন করা হয়। মসজিদের নির্মান কাজ শেষ হয়ে যাওয়াতে সম্প্রতি ওই জায়গাটি আবারো ফাঁক হয়ে যায়। এই সুযোগে একটি মহল এটি দখলের চেষ্টা করছে। এলাকাবাসীর দাবি এই জায়গাতে খেলার মাঠ হিসেবে ঘোষনা করা হোক। এখানে যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছে তাদেরও উচ্ছেদ করা হোক।
কেশবপুর ভেড়িপাড়া জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনী বলেন, মসজিদ নির্মান কাজ চলা কালে এখানে তিন বছর আট মাস নামাজ আদায় করা হয়েছে। অস্থায়ী মসজিদ তৈরির আগে এখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করতো। এটি এখন খেলাধুলার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সামাজিক সম্পত্তি হিসেবে পরিগনিত ওই জায়গাটির জন্য এলাকায় ১১ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে এতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আফজাল হোসেন। আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বচ্ছ টাওয়ারের মালিক আব্দুর রহমান। ওই জায়গার বিষয়ে প্রথম দিকে বেশ কয়েকটি সভা হয় তাতে ওসমান গনী উপস্থিত ছিলেন। পরে আর কোনো সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন বলেন, এই জায়গাতে আগে পীর পালের মাজার ছিল। এখানে মহরমের সময় লাঠি খেলা হতো। পরে দীর্ঘদিন এটি পড়ে ছিল। জঙ্গল ছিল কিছু জায়গাতে। বাকি জায়গাতে শিশুরা খেলাধুলা করতো। অস্থায়ী মসজিদ না থাকায় বর্তমানে এর কাঠ বাঁশ এবং টিন ওই জায়গা রয়েছে। তিনি কার্যত সভাপতি হলেও এর কার্যক্রম চালায় সিদ্দিকুর রহমান এবং আব্দুর রহমান। এই জায়গার এক অংশে তিন কাঠা জায়গাতে বাড়ি করে রয়েছে হাকিম, হাফিজ এবং সূর্য। সামনের দিকে আসলাম নামের একজন কাঠের দোকান স্থাপন করছেন। এদের সহায়তায় রাজপাড়ার কয়েকজন ওই জায়গাতে স্থাপনা নিমান করছে। এসব কার্যক্রম চলছে তাকে না জানিয়ে। এ বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েছেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বলেন, এটি সামাজিক মালিকানার জমি। এটাতে কোনো স্থাপনা তৈরি করা অবৈধ। এটি যাতে উন্মুক্ত থাকে তার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ