রাজশাহীতেও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দেখতে চাই: বাদশা

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জনসভায় বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা সোনার দেশ

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, সংবিধানে লেখা আছে বাংলাদেশের মালিক জনগণ। কিন্তু এখন দুর্নীতিবাজরাই দেশের মালিক হয়ে গেছে। ক্ষমতার মালিক দুর্নীতিবাজেরা। তারা যা চান, তাই হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান আমরা রাজশাহীতেও দেখতে চাই। গতকাল শনিবার বিকালে নগরীর সাহেববাজার বড়মসজিদের সামনে পার্টির এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাদশা বলেন, রাজশাহীতে যারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে প্রশাসন এখনও তাদের পাহারা দিয়ে রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এমন অবস্থা চলতে পারে না। বাদশা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। এ বিষয়ের পক্ষে থাকায় আমাদের নামে মিথ্যা প্রচার করা হয়। কিন্তু আমরা ভয় পাই না।
যতই কুৎসা রটনা করা হোক না কেন, তা সব সময় মিথ্যা। আর মিথ্যা বালুর বাঁধ, যা সামান্য বাতাসেই ভেঙে যায়। আমরা এমন রাজনীতি করি না যে আমাদের পকেটে কোটি টাকা থাকে। আর আমি কখনও কাউকে ভয় পাই না। রাজশাহীর মানুষের জন্য আমার বাকি জীবন। ন্যায় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলবেই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে ২২টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা এখানকার টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিত। তাদেরকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপর ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত হলো। কিন্তু অর্থপাচার থামেনি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যে পরিমাণ টাকার বাজেট হয় সেই পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। যারা এখনও দেশের টাকা পাচার করে তারা নব্য রাজাকার। এসব নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
বাদশা বলেন, গণমাধ্যম যখন সত্য প্রকাশ করে তখন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়। দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ করলে হুমকি দেয়া হয়। কিছু দিন আগে রাজশাহীতে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। লুটেরাদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই। প্রশাসনকে লুটেরাদের দিকে নজর দিতে হবে। সমাজে যারা অস্থিরতা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্প্রতি লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি ব্যাংকের রাজশাহী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি আরিফুল হক কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই প্রসঙ্গ তুলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, লুটেরা গ্রেপ্তার হয় না। গ্রেপ্তার হয় কে? আরিফুল হক কুমার, যিনি ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু যে ঠিকাদার ব্যাংকটির টাকা লুটে নিলেন তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এভাবেই লুটপাটকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরের মানুষ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমরা আম দিয়েছি, ধান দিয়েছি, মাছ দিয়েছি। কিন্তু উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছি। এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না। আমি বার বার পার্লামেন্টে কথা বলেছি। রাজশাহীতে যেন শিল্পায়ন ঘটে তার জন্য পণ্য পরিবহনে যমুনা নদীতে আলাদা রেলসেতু নির্মাণের জন্য কথা বলেছি। আজকে সুখবর দিতে চাই, যমুনা নদীতে রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এখন শিল্পায়ন ঘটবে।
পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সব সময় বঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করে। যে নীতি এবং আদর্শ নিয়ে পার্টি এগিয়ে যায়, সেটা মনে রেখেই নেতাকর্মীদের দলের জন্য কাজ করতে হবে। সমতাভিত্তিক, বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ওয়ার্কার্স পার্টিকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির একাদশ সম্মেলন উপলক্ষে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয় ওয়ার্কার্স পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সমাবেশের বিশেষ অতিথি পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নুর আহমেদ বকুল উপস্থিত ছিলেন। নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে। সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবুর পরিচালানয় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নারী মুক্তি সংসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক তসলিমা খাতুন, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সাব্বা আলী খান কলিন্স, জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, নগর সম্পাদকম-লীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, আবু সাঈদ, ফেরদৌস জামিল টুটুল, রাজপাড়া থানা সভাপতি আবদুল মতিন, শাহমখদুম থানা সভাপতি মিজানুর রহমান টুকু প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ