রাজশাহীতেও হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল || রাসিক মেয়রের সঙ্গে পাওয়ার চায়না কোম্পানির বৈঠক

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৯, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পাওয়ার চায়না’র নেতৃবৃন্দের সাথে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাসিক এর কর্মকর্তাগণ- সোনার দেশ

রাজশাহী নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে গড়ে তোলা হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরভবনের মিনি কনফারেন্সরুমে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে চায়নার বৃহত্তর কোম্পানি পাওয়ার চায়না’র (Power China) এক বৈঠকে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে শুধু গণপরিবহন ব্যবস্থাই নয়, নগরীর বিভিন্নখাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সেই অনুযায়ী বাস্তবায়নে কাজ করবে পাওয়ার চায়না কোম্পানি। এতে সহযোগিতা করবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। দুপুরে পাওয়ার চায়না কোম্পানির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হান কুনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিটি মেয়রের বৈঠকে রাজশাহীর উন্নয়নে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, রাসিকের সার্বিক সহযোগিতায় মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে চায়নার বৃহত্তর কোম্পানি পাওয়ার চায়না।
এর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, পদ্মা নদীর ধারে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে সেখানে গড়ে তোলা হবে বিনোদন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা। দ্বিতীয়ত, রাজশাহীতে জেনারেল এবং স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। তৃতীয়ত, হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকনিক্যাল সুবিধা বাড়ানো হবে। চতুর্থত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। পঞ্চমত, নগর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে গণপরিবহণ, রাস্তা নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, সড়ক আলোকায়ন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনার মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যানের বাইরেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মেয়র বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়না রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জ্যুয়ো রাজশাহীতে এসে সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করেছিলেন। এরপর তিনি চায়না বৃহত্তর একটি কোম্পানি পাওয়ার চায়নাকে আমার কাছে পাঠান। গত ৩১ জানুয়ারি কোম্পানিটির সাথে আমরা প্রথম বৈঠক করি। রাজশাহীর উন্নয়নে অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারাও মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে। তারা অর্থসহ সব কিছুই ইনভেস্ট করবে।
মেয়র আরো বলেন, যে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে, সেটা বাস্তবায়ন হলে পুরো রাজশাহীর ব্যাপক উন্নয়ন হবে। মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি আরো অনেক উন্নয়ন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজশাহীবাসীকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম, সেটারও বাস্তবায়ন হবে। আশা করছি আমরা ভালোভাবে কাজ শুরু করতে পারবো।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, আগামি ১৫ দিনের মধ্যে রাসিকসহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থা এবং পাওয়ার চায়নার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এরপর পাওয়ার চায়নার সাথে আবারো আলোচনার পর এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে।
এসময় পাওয়ার চায়না প্রতিনিধি দলের অ্যান্ডুসনহ অন্যরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, সচিব রেজাউল করিম, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা শাহানা আখতার জাহান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাসার, নির্বাহী প্রকৌশলী রেয়াজেত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।