রাজশাহীতে বেড়েছে কলার আবাদ

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৮, ১১:২৮ অপরাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


রাজশাহীতে বাণিজ্যিক ভাবে বেড়েছে কলা চাষ-সোনার দেশ

রাজশাহীতে বাণিজ্যিক ভাবে বেড়েছে কলা চাষ। আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় জেলার কৃষকেরা কলা চাষে ঝুঁকছেন। বর্তমানে রাজশাহী জেলায় অর্থকরি ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই কলা।
গত বছর কলার দামে খুশি না হলেও এবারে কলার দামে চাষি ও ব্যবসায়ীরা বেশ লাভবান হয়ে উঠেছেন। এক কাধি কলা হাজার টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। বাজারে কলার দাম কিছুটা কমলেও এখনো কাধি ভেদে ৪শ’ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কলার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলায় কলার আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবারে প্রায় আট হাজার বিঘা বেশি জমিতে কলা চাষ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে কলার কলা চাষ হয়েছে। ২০১৬ সালে কলার কম দাম ও মড়কসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত বছর আবাদ কম হয়েছিল। ২০১৭ সালে জেলায় আবাদ হয়েছিল এক হাজার ৩৬১ হেক্টর।
পবা উপজেলার কলাচাষি মিজান, হাবিবুর রহমান, মোহনপুর উপজেলার গোলাম মোস্তফা, তানোর উপজেলার মামুন জানান, অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয় কলা চাষে। ফলে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন কলার চাষ বেশি হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জেলায় অনুপম, চাঁপা, মেহের সাগর, মানিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির কলার চাষ করা হয়েছে। এ সব জাতের কলা গাছ থেকে অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়।
কলা চাষিরা জানান, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কলার দামও বেশি। সাধারণত বৈশাখ মাসে কলার চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কলা পাওয়া শুরু হয়। যেসব জমিতে বর্ষার পানি এক সপ্তাহের বেশি থাকে না সেসব জমিতে কলার চাষ ভাল হয়।এ ছাড়া পবা, মোহনপুর, তানোর, বাগমারা ,দুর্গপুর উপজেলায় পুকুর খনন করে পুকুর চারপাশে কলাগাছ লাগানো হচ্ছে। এতে মাছ চাষও হয় এবং কলা চাষও হয়। এতে দুদিক থেকেই আয় করা যায়।
কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যতœ সহকারে কলা চাষ করলে ফলন ভাল পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। তারা আরো বলেন, কলা বিক্রিতে কোন ঝামেলা হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যায়।
এ ছাড়াও পুঠিয়ার বানেশ্বর, ঝলমলিয়া, মোল্লাপাড়া ও পবার বায়া বাজারে এবং মোহনপুরের মৌগাছি ও কেশর হাটে কলার বিশাল হাট বসে। পবা উপজেলার বিরস্তইল এলাকার কলা চাষি শাহিন বলেন, এ বছর পুরো মৌসুম জুড়েই কলার দাম ভাল পাওয়া গেছে। দাম ভাল থাকায় ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই কিনে নিয়েছেন। এতে হাটের টোল খরচও দিতে হয়নি। একই এলাকার রবিউল ইসলাম জানান, আমাদের নিজস্ব জমি-জমা না থাকায় অপরের জমি লীজ নিয়ে কলার চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করি। চলতি মৌসুমে কলার দাম ভাল পাওয়ায় আবারো নতুনভাবে কলাচাষ করেছেন। বর্তমানে এক কাধি কলা উৎপাদন করতে আমাদের প্রায় ৭০/৮০ টাকা খরচ হয়।
জেলায় সবচেয়ে বেশি কলাচাষ হয়ে থাকে পুঠিয়া উপজেলায়। উপজেলার বানেশ্বর এলাকার কলাচাষি সুলতান আহম্মেদ জানান, এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় প্রায় ৫ বিঘা জমিতে কলা লাগিয়েছেন। তিনি আরো জানান, গত বছর প্রতি বিঘায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হয়েছে। কলাচাষে লাভের পাল্লাই ভারি থাকে। তবে দুই বছর আগে একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মড়কে কিছুটা লোকসান হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, কলাচাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় এ বছর চাষিরা গত বছরের চেয়ে বেশী জমিতে কলার চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনাকাঙ্খিত মড়ক না হলে চাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি জানান।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলতি বছর এক হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে কলার কলা চাষ হয়েছে। যারমধ্যে মতিহারে ১২ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ১০ হেক্টর, পবা উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৩০ হেক্টর, তানোরে ১ হেক্টর, গোদাগাড়িতে ১০ হেক্টর, বাঘায় ৮৩ হেক্টর, দুর্গাপুরে ২৩৫ হেক্টর, বাগমারায় ১৪০ হেক্টর, চারঘাটে ১শ’ হেক্টর ও পুঠিয়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর। তবে এ বছরে কলার দাম ভাল থাকায় কলাচাষিরা লাভবান হবেন বলে কৃষকেরা আশা করছেন।