বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাজশাহীতে শিল্প-উদ্যোগের সমস্যা সমাধান আদৌ হবে কি?

আপডেট: October 30, 2019, 1:01 am

রাজশাহী জেলা অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাদপদ এলাকা হিসেবে গন্য হয়। এর একটি অন্যতম কারণ হলো- রাজশাহীতে তেমন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। মূলত রাজশাহী এখনো কৃষি অর্থনীতির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা কারণে এই অঞ্চলে তেমন বিনিয়োগ হয় না। ফলে এ অঞ্চলে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ পোভার্টি অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনের তথ্য মতে ২০১০ সালের পর রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র বিমোচনের কোনো পরিবর্তন নেই। রংপুর বিভাগে বরং দারিদ্র বেড়েছে। এই তথ্যই রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার সাক্ষ্য দেয়।
রাজশাহীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলেও সেগুলো নানা সমস্যার মধ্যে পড়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) রাজশাহীর পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তিন ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি হলো- বিসিক শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকা ও জমির সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধির কারণে অগ্রগতি ঘটছে না। শুধু তাই নয়, সার্ভিস চার্জ নেয়া সত্ত্বেও বিসিক থেকে দেয়া হয় না কোনো সেবা। ফলে বিসিক এলাকায় সড়কে খানা-খন্দ ও গর্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার। সড়ক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলেও অসুবিধা হয়। এসব সমস্যা রাজশাহীতে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
দ্বিতীয়তঃ রাজশাহীর মহানগরীর সপুরায় ৯৬ দশমিক ৬৩ একর জমির উপর ১৯৬১ সালে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়। এতে প্লট রয়েছে ৩২৫টি। সবগুলো প্লটই বরাদ্দ দেয়া আছে। মোট শিল্প কারখানা রয়েছে ২০৪ টি। এর মধ্যে চালু রয়েছে ১৮২টি। শিল্প প্রতিষ্ঠানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ১২৬টি প্লটে কোনো শিল্প-কারখানা নেই। আর তৃতীয়টি হলো- ২২ টি শিল্প-কারখানা বন্ধ রয়েছে।
বিসিক শিল্প এলাকা রাজশাহীর শিল্প-কারখানা বিকাশের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১২৬টি প্লটে শিল্প-কারখানা কেন হয় নি? তা হলে ওইসব প্লট কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে? জানা যায়, ওইসব প্লট এখন আবাসিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ নিয়ে সংবাদপত্রে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয় নি। বরং ওই সব প্লটের ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার মালিকানাও বদল হয়েছে। অর্থাৎ বিসিক শিল্প এলাকার অনেক প্লট প্রকৃত উদ্যোক্তাদের দেয়া হয় নি। বিসিক এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠার এটিও একটি বড় কারণ। তবে যারা প্লট অন্য কাজে ব্যবহার করছে তারা শর্ত লঙ্ঘন করছেন কিনা সেটা দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। যে সব শিল্প-কারখানা বন্ধ রয়েছে- সেগুলোর স্বরূপ জানাও দরকার। প্রয়োজনে সেগুলি সরকারের প্রণোদনা দিয়ে চালুর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আর বিসিক শিল্প এলাকায় যে সব শিল্প-প্রতিষ্ঠান চালু আছে তারাও যাতে সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিনিয়োগ গুটিয়ে নিতে না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার সময় হয়েছে। উদ্ভুত সমস্যাগুলো বেশ পুরানো। এসব সমস্যা রেখে এ অঞ্চলে শিল্পে নতুন বিনেয়োগও প্রত্যাশা করা যাবে না। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই সমস্যার সমাধান হওয়া বাঞ্ছনীয়। সমপাতিক হারে উন্নয়ন সুবিধা সব অঞ্চলে নিশ্চিত করা না গেলে এ অঞ্চলের দরিদ্রাবস্থা রংপুরের মতই বৃদ্ধি পাবে। যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার পরিপন্থী হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ