রাজশাহীর ভোটারদের নৌকায় আস্থা

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জাহাঙ্গীর আলম, লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না, আব্দুস সালাম, অনিল কুমার সরকার, নজরুল ইসলাম, জিএম হিরা বাচ্চু, ফকরুল ইসলাম ও লায়েব উদ্দিন লাভলু-সোনার দেশ

রাজশাহীর আট উপজেলার মধ্যে আটটিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুইটি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বাঘা উপজেলায় লায়েব উদ্দিন লাভলু ও মোহনপুরে আব্দুস সালাম।
গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই উপজেলা ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম । তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৫০৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র বদিউজ্জামান পেয়েছেন আনারস প্রতীকে ১৮ হাজার ৫০২ ভোট। জাতীয় পাটির দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দীন বিশ্বাস লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৩৫ ভোট। আর ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় প্রার্থী সাইদুর রহমান হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭৯টি ভোট। এই উপজেলায় ৯৩টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪টি ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ২২টি ও বাতিলকৃত ভোট হচ্ছে ১ হাজার ৯৩০টি। এই উপজেলায় একটি অনিয়ম ভোট দেওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৮৫ জন।
তানোর উপজেলায় ৩৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না। তিনি ৩৭ হাজার ২২০টি ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৬৬ ভোট। এই উপজেলায় ৫১ ভোট কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৭৪ হাজার ৮৬ ও বাতিলকৃত ২ হাজার ২৯১ ভোট।
বাগমারা উপজেলায়ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অনিল কুমার সরকার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাচার ২৪৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে বাবুল হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩৪ ভোট। এই উপজেলায় ১০৫ ভোট কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৩৬ হাজার ১৮১ ও বাতিলকৃত ৪৮৯ ভোট। এই উপজেলায় একটি কেন্দ্র স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই স্থগিত কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি। কাস্টিং ভোটের শতকরা হার ১৩ শতাংশ।
চারঘাটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম পেয়েছেন নৌকা প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৭টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ ভোট। এই উপজেলায় ৫২ ভোট কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ৯৬৫ ও বাতিলকৃত ২ হাজার ৩০০ ভোট। কাস্টি ভোটের শতকার হার ৪৮.৯৯৯ শতাংশ।
দুর্গাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৩৫ হাজার ৮০৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার ঘোড়া প্রতীকে ২৮ হাজার ৫৪৯ ভোট পেয়েছেন। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের মন্ডল আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৪ ভোট। এই উপজেলায় ৫৩ ভোট কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ১০৫ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৬৪ হাজার ৯৪৯ ও বাতিলকৃত ১ হাজার ৭৭ ভোট।
পুঠিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিএম হিরা বাচ্চু নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যাপক মো. আনছার আলী লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন। এই উপজেলায় ৬৩ ভোট কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২৪ ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৪১ হাজার ৪০০ ও বাতিলকৃত ১ হাজার ৪৯৩ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গোদাগাড়ী ও বাগমারায় একটি করে কেন্দ্র স্থগিত করা আছে। এজন্য নির্বাচন অফিসের অনুমতি সাপেক্ষে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে সোমবার। নৌকার প্রার্থীর সাথে অন্য প্রার্থীর ভোট পার্থক্য বেশি থাকায় চেয়ারম্যান পদে এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ