রাজশাহীর মাঠে মাঠে পাকতে শুরু করেছে গম

আপডেট: মার্চ ১৭, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


খেতের পাকা গম সংগ্রহ করছেন শ্রমিকরা সোনার দেশ

চলতি বছর আবাওয়া অনুকূলে থাকায় রাজশাহীতে গমের আবাদের ফলন ভাল হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। তবে বরাবরের মত বাজারে কাক্সিক্ষত দাম নিয়ে হতাশায় রয়েছেন চাষিরা।
সঠিক সময়ে গম বপণ করায় আবাদ ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছে চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা। গতবারের চেয়ে এবারে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে। গতবার আবাদ হয়েছিল ২৩ হাজার ৪৩১ হেক্টর।
গমচাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমের শুরু থেকে অনুকুল আবহাওয়া থাকায় চাষিরা ভালভাবেই গম বীজ বপণ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো খেতেই গমের শীষ বেরুতে বাকি নাই। ইতোমধ্যে গম কাটা শুরু হয়েছে।
পবা উপজেলার তেঘর এলাকার চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, গভীর নলকূপ আসার আগে রবি মৌসুমে জেলার বেশিরভাগ জমিতে চাষিরা গমের আবাদ করতো। বিভিন্ন কারণে এবং সেচ সুবিধা থাকায় চাষিরা ওই জমিতে অন্য আবাদ করছেন। ফলে কমে গেছে গমের আবাদ। আবার গমের আবাদ করলে সেই জমিতে বোরো ধানের চাষ করা যায় না। ওই জমিতে আলু করলে ধানও করা যায়। তাছাড়া ধানের দাম বাড়লেও গম আবাদ করে এর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষিরা। এজন্য গম চাষে চাষিদের মাঝে অনীহা দেখা দেয়। তবে সেচ ও আলুর দাম কম থাকায় এবারে চাষের আবাদ বেড়েছে। ভাল উৎপাদনের আশা করছেন তারা।
পবা উপজেলার দুয়ারী গ্রামের গমচাষি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আলু ও ধানের চেয়ে গমচাষে সেচ কম লাগে। গম সংরক্ষণেও সুবিধা আছে। মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর এলাকার গমচাষি আবু বাক্কার বলেন, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন। গমবীজ বপণের সময় আবহাওয়া অনুকুল এবং আলুর আবাদ কম হওয়ার এই এলাকায় গমের আবাদ গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আবাদের ক্ষতি হবে বলে তারা জানান। কিন্তু কৃষি অফিস জানান, বেশিরভাগ গম খেতে কেবল শীষ বেরুনোর সময় বৃষ্টি হওয়ায় তেমন ক্ষতি হবে না। বৃষ্টির পরে আবারো কয়েকদিনের রোদে শুকানোর ফলে ক্ষতি হবে না। তবে এখন যদি আবারো বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলে ক্ষতির আশঙ্কায় বেশি থাকবে।
গম গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বারিগম- ৩০, ৩২ ও ৩৩ জাত উদ্ভাবন করে। এর মধ্যে বারিগম- ৩০ ও ৩২ সারাদেশে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে বারিগম- ৩৩ শুধু ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধীই নয়, এটি জিংক সমৃদ্ধ একটি জাত। রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে চলতি মৌসুমে বারিগম- ২৮, ২৯, ৩০, ৩১ ও ৩২ জাতের গমের আবাদ করেছে। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলের আবহাওয়া গম চাষের অনুকুলে থাকায় এবার উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামশুল হক জানান, এবারে আবাদ গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় উৎপাদন আশানুরূপ হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চাষিরা লাভবান হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ