রাজশাহীর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নির্বাচন || মনোনয়ন প্রত্যাশি ৮ জন, আলোচনায় নারীনেত্রী রেণী

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জিনাতুন নেসা তালুকদার, বেগম আকতার জাহান, শাহীন আক্তার রেণী, ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, নিঘাত পারভীন, মর্জিনা পারভীন, নাসরিন আক্তার মিতা, নার্গিস সুরাইয়া সুলতানা শেলী-সোনার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ শেষ হতে না হতেই রাজশাহীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন রাজশাহীর আট জন নারী নেত্রী। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যোগাযোগ করারও চেষ্টা করছেন। তবে এসব নারীনেত্রীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন আকতার রেণী। দলীয়ভাবেও তার পক্ষেই মনোনয়ন চাওয়া হবে বলে জানান নেতাকর্মীরা।
এছাড়া অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, সংরক্ষিত আসনের সদ্য সাবেক সাংসদ বেগম আখতার জাহান, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিঘাত পারভীন, নগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসমিন রেজা ফেন্সি, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আকতার মিতা, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি আবিদা আনজুম মিতা ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নার্গিস সুরাইয়া সুলতানা শেলী। তবে এদের মধ্যে অন্তত কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশি বলেছেন, শাহিন আকতার রেণীকে মনোনয়ন দেয়া হলে তারা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শাহিন আকতার রেণী এবারই প্রথম সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি রাজশাহীর নারীদের কাছে একটি প্রতিষ্ঠিত নাম। ইতোমধ্যে তার সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় পাওয়া গেছে। গতবছর জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর কর্মতৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। সেসময় তার নেতৃত্বে শত শত নারী ভোটের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, করেছেন গণসংযোগ। এমনকি প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়েছেন ভোট। বলা যায়, তার নেতৃত্বে সেসময় নারীদের মধ্যে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছিলো।
শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিকই না, নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতেও সমানভাবে অংশ নিয়ে নারীদের মধ্যে ব্যাপক জাগরণ তৈরি করেছেন তিনি। তারা বলছেন, আমরা চাইবো রাজশাহীতে এবার শাহিন আকতার রেণীকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শাহীন আক্তার রেণী সর্বশেষ নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। মূলত, ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন শাহীন আকতার রেণী। সততা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড দিয়ে রাজশাহীর নারী নেত্রীদের মধ্যে তিনি এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। অনেকেই তাকে রাজশাহীর নারী নেতৃত্বের আইকন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এসব বিষয়ে শাহিন আকতার রেণী নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক মনে করেন মাত্র। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্য থেকেই রাজনীতিতে আসা। আমার পুরো পরিবারও রাজনীতির সাথেই সম্পৃক্ত। সেই লক্ষেই সরকারের একটি দায়িত্বে থেকে সরকারের উন্নয়ন ও পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্যই এবার সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা মাথা পেতে নেব।
দশম সংসদে রাজশাহীর সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হন বেগম আকতার জাহান। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি জনগণের কাছে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। এবারও যদি প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগ দেন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবো।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন জিনাতুন নেসা তালুকদার। পরে তিনি সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর ২০০৮ সালে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয়বারের মতো সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন জিনাতুন নেসা। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তবে ২০১৪ সালে তৃতীয় দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় বাদ পড়েন তিনি।
জিনাতুন নেসা তালুকদার বলেন, আমি টানা দুইবার সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ছিলাম। একবার শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছি। এবারও যদি দল যোগ্য মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আবার সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচন করবো।
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, মনোনয়ন তো অনেকেই চাইবেন। তবে এর মধ্যে যিনি সৎ, যোগ্য ও সাংগঠনিক, তার জন্য যদি হাইকমান্ডের কাছে সুপারিশ করা হয় তাহলে আমি মনে করি শাহিন আকতার রেণীই এদিক থেকে সবচেয়ে বেশি যোগ্য। কারণ মনোনয়ন তাকেই দেওয়া উচিত যিনি সরকারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন। তো সেদিক থেকে শাহিন আকতার রেণীর জনগণের সাথে মেশার যে দক্ষতা, তার আচার-ব্যবহার, তার কর্মদক্ষতা, নারীদের মধ্যে প্রভাবÑসবমিলিয়ে বলা যায়, শাহিন আকতার রেণীকে মনোনয়ন দিলে তা বাস্তবসম্মত ও কার্যকরি হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ