রাজশাহী অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিপুল সম্ভাবনা, কেউ নেয়না দায়!

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

উদাহরণটা খুবই কাছের। ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটানের পর্যটন শিল্প যথেষ্ট বিকশিত। অথচ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প সমৃদ্ধ হলেও তা দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশে তেমনভাবে বিকশিত করা যায় নি। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল জুড়ে বৈচিত্রপূর্ণ নৈসর্গিক স্থানসমূহ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন আছে, তেমনি এ অঞ্চল সমৃদ্ধ প্রতœসম্পদে ভরা। অথচ এসব বৈচিত্রময় স্থান ও প্রতœসম্পদ পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গণ তো দূরের কথা দেশের অভ্যন্তরেই ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছেও এ তথ্য অজানা।
শনিবার ‘কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশিজনেরা সেই কথাই বললেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
অংশিজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়Ñ রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থাপত্যশিল্প, চিত্রকলা ও প্রাচীন যুগের মূর্তি। রয়েছে মনোরম নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিল-ঝিল ও নদ-নদীর অপূর্ব সমাহার। রয়েছে জারি-সারি, গম্ভীরাসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা বৈচিত্র্যময় শাখা। রয়েছে জাতি-ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে নানা ভাষাভাষির মানুষজন। অথচ শুধু প্রচার-প্রচারণার অভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে না এই সম্পদগুলো। গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না পর্যটন শিল্প। ফলে অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়েও বিশ্বের দরবারে পিছিয়ে পড়ছে রাজশাহী অঞ্চল।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর সারাবিশ্বের এক ঐতিহ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর, পুঠিয়া আর নাটোরের রাজবাড়ি, বাবুডাইং, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ, নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, রাজশাহীর আম এবং রেশমকে ঘিরেই উত্তরাঞ্চলে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে নাটোর চলনবিল, হালতির বিল, পদ্মা নদী, মহানন্দা নদীসহ অসংখ্য নদ-নদী ও খালবিল প্রভৃতি শিল্প-সম্ভাবনার স্মারক তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
রাজশাহীকে পর্যটন শিল্পের জন্য ব্রান্ডিং করার ক্ষেত্রে প্রথমেই বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের নাম চলে আসে। পর্যায়ক্রমে আছে বড়কুটি, পুঠিয়ার রাজবাড়ি, শাহ মখদুম (রহ.) এর মাজার, রেশম শিল্প, আম আরো অসংখ্য প্রতœসম্পদ। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর Ñ অথচ রাজশাহী নগরীতে কোথাও একটা বিলবোর্ড বা অন্য প্রচারণা ব্যবস্থা নেই যদ্বারা বহির্জেলার কোনো অতিথি রাজশাহী আসলে রাজশাহীর ওই ঐতিহ্য-স্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। জাদুঘরটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। রুটিনমাফিক কাজ ছাড়া তাদের কোনো উদ্যোগ নেই- যাতে করে জাদুঘর সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। সর্বত্রই এই উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। নাগরিক প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করপোরেশনও এ অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালে পর্যটন শিল্পের বিকাশে নাগরিকদের সমন্বয়ে একটা বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে মেয়রপদে পুনঃনির্বাচিত না হওয়ায় তা আর এগুইনি।
রাজশাহী অঞ্চলের পর্যটন শিল্প এগিয়ে নিতে এ অঞ্চলের মানুষেরই তাগিদ থাকতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন শিল্পের সম্ভবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারলে জনপ্রতিনিধিরা মানুষের আস্থা অর্জন করবেন, এ অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবেÑ সেই সাথে এ অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশেও তুৃলে ধরা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ