রাজশাহী অঞ্চলে চামড়া ব্যবসায় ধস

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০১৯, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চামড়া নিয়ে দারুণ বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। আগে কোরবানি পশুর চামড়া কেনার জন্য গ্রামেগঞ্জে ক্রেতার সমাগম থাকলেও এবারে ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর চামড়া বিক্রিতে দেখা দিয়েছে সংকট। কোনো কোনো এলাকা ছিল ক্রেতা শূন্য। পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পারায় বঞ্চিত হয়েছেন হত দরিদ্ররাও।
আড়ৎদাররা বলছেন, আগের অনেক টাকা বকেয়া পড়ে থাকায়, এবার তারা ঝুঁকি নিয়ে চামড়া ক্রয় করেননি। এমনিতেই যেটুকু এসেছে তা কিনেছেন। আড়ৎদারদের কথার সত্যতা মিলে, চামড়া কেনার জন্য বিভিন্ন্ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা গেল বারের তুলনায় কম থাকার চিত্রে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানায়, এবার তারা খুবই কম চামড়া ক্রয় করেছেন।
রাজশাহীর জেলা ও উপজেলাগুলো খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি কোরবানিকৃত ছাগল-ভেড়ার চামড়া মূল্য ১০/২০ টাকা এবং প্রতিটি গরুর চামড়া ভেদে ৫০/১০০/২০০ টাকা বিক্রি করাও ছিল দুষ্কর। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন চামড়ার হাটে বকরি ১০-১৫ টাকা, খাসি ৪০-৫০ টাকা, বকনা গরু ও ষাড় ১০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছাগলের খাজনা ৫ টাকা এবং গরুর ২০ টাকা। ছাগলের চামড়া ১০ টাকায় বিক্রি করে দিতে হয়েছে ৫ টাকা খাজনা। অনেকে ছাগলের চামড়া বিক্রি না করে ফড়িয়াদের মাগনা দিয়েছেন। অনেকে আবার চামড়া বিক্রি করতে না পারায় মাটির নিচে পুঁতে দেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
মোহনপুর: মোহনপুরের প্রধান চামড়া চামড়া বাজার কেশরহাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ চামড়া আমদানী হলেও ক্রেতাশূণ্যতায় হতাশ হয়ে পড়েন অনেক বিক্রেতারা। উপস্থিত গুটি কয়েক ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা শ্রোতে গা ভাসিয়ে গরুর চামড়ার দাম হাকাতে থাকে ১শ টাকা থেকে সর্বচ্চো ২শ ৫০টাকা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে বিক্রেতারা নিরুপায় হয়ে এমন দামেই চামড়া বিক্রি করে চলে যায়। আবার অনেকেই ২০ টাকা থেকে ২৫টাকা মূল্যের ছাগলের চামড়া ফেলে রেখে চলে যায়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এ চামড়ার বাজারে আসলেও এবারে ছিলনা তাদের উপস্থিতি। স্থানীয় ফড়িয়ারা কিছুটা চামড়া কিনলেও শেষ পর্যন্ত চামড়া কিনেতে পারেননি তারা। বিক্রি করতে না পেরে শিব নদীতে ফেলে দেয়া পশুর চামড়া ভাসতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকার সর্বসাধারণ।
কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের জহির উদ্দিন নামে একজন চামড়া বিক্রেতা জানান, পাঁচঘন্টা বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে থেকে কেউ তার চামড়ার দাম বলেনি। অবশেষে একজন ব্যবসায়ীকে ডেকে গরুর চামড়া ২শ টাকায় বিক্রি করে বাড়ি ফেরেন তিনি।
কেশরহাটের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে ট্যানারী মালিকরা আগাম টাকা পাঠিয়ে চামড়া কিনতে বলতেন আমরা সেভাবেই চামড়া কিনতাম। বিগত কয়েক বছর থেকে আগের পাওনা টাকাই পরিশোধ করেন নি মালিকরা। এজন্য আমি আর চামড়া কিনতে বাজারে নামিনি। এবিষয়ে সরকারি উদ্যোগ জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
কেশরহাট চামড়া বাজারের ইজারাদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, চামড়া দাম কম হওয়ার কারণে দূরের পাইকার ছিলনা বলে অর্ধেক চামড়া বিক্রি হয়নি। এজন্য ইজারার টাকার অর্ধেক লোকসান গুণতে হয়েছে তাকে।
কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান বলেন, চামড়ার কম হয়রার কারণে বাজারে চামড়ার বেচাকেনা ছিল পাঁচ বছরের মধ্যে এবারে সর্বনি¤œ। তবে চামড়া শিল্প রক্ষার্থে সরকার কাজ করছে দ্রুত এ সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তানোর: রাজশাহীর তানোরে এক লিটার পানির দামের চাইতেও কমে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া। তাও আবার এসব চামড়ার বেশিরভাগ ক্রয় করছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। অনেককে দেখা গেছে দাম কম হওয়ায় মাদ্রাসায় দিয়ে দিচ্ছে পশুর চামড়া।
গত সোমবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত তানোরের অনেক বাসাবাড়ির সামনে কোরবানির পশুর চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
তানোর উপজেলায় সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনেকের পশু কোরবানির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিক ওই সময় কিছু ভ্রাম্যমান মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া ক্রয় করতে দেখা গেছে।
সরজমিনে গিয়ে চিমনা গ্রামে দেখা যায়, এক মৌসুমী ব্যবসায়ী ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়া এবং হাজার ৯০ টাকার গরুর চামড়া দাম বলছেন ১শ’ টাকা। সাধারণ মানুষ চামড়ার মূল্য না জানার কারণে বিক্রি করতে গিয়ে সন্দেহে পড়ছেন।
যদিও এবছর সরকার গরুর চামড়ার প্রতি ফুটের মূল্য নির্ধারণ করেছেন ৪৫ থেকে ৫০টাকা। সেই হিসেবে মাঝারি চাইজের একটি গরুর চামড়ার মূল্য পড়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
এ নিয়ে তানোর উপজেলা ইলামদহী গ্রামের চমড়া ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান জানান, ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভেড়ার চামড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা, গরুর চামড়া ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ক্রয় করেছি। এর পরেই বিক্রি করতে পারছিনা। দুই একদিরে মধে বিক্রি করতে না পারলে অনেক লোকশানের মধ্যে পড়বো বলে জানান তিনি।
এ নিয়ে প্রানপুর গ্রামের এক সমাজের মোড়ল নাজিমদ্দিন জানান, এলাকার গরীব মানুষসহ মাদ্রাসার এতিম শিশুরা বিপাকে পড়েছে। চামড়ার দাম না থাকায় সমাজ থেকে যতসামান্য টাকা তারা পাচ্ছে। এতে করে তারা তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেনা।
দুর্গাপুর: ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজশাহী দুর্গাপুরে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রিতারা। সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দামও মানা হয়নি। ঈদের দিন কোনবানি শেষে বিকেল থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাটে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা। এবার ঈদ মাঠ থেকে শুরু করে চামড়ার হাটেও দেখা মেলেনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। তবুও চামড়া কেনার ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়ায় যায়নি। কিছু ব্যবসায়ীরা হাটেবাজারে থাকলেও দাম বলতে নারাজ তারা। উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী এবার ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।
দুর্গাপুরের বৃহত্তম হাট সিংগা হাটে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫শ টাকায়। আর মাঝারি মানের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২শ থেকে ৩শ টাকার মধ্যে। যা গত বছরও ৮শ থেকে ১২শ টাকায় দরে বিক্রি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই যুগেও এমন দামে পশুর চামড়া বিক্রি হয়নি। বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ভিড় করে থাকলেও এবার তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলেনি। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ২শ থেকে ৩শ টাকায় চামড়া কিনেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
ঈদের দিন গত সোমবার বিকেলে ও গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার আমগাছি, কানপাড়া, ধরমপুর, দাওকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া ব্যবসায়ীদের আভাবে মোড়ে মোড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। এছাড়াও চামড়া নেয়ার লোকজন না থাকার কারণে অনেকে বাধ্য হয়েই ছাগলের চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলছেন। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মৌসুমি চামড়ার ব্যবসায়ীরা চামড়া রেখে চলে গেছেন। এসব চামড়া নিয়ে এখন বিপাকে পড়ে আছে স্থানীয়রা।
উপজেলার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের মাজদার হোসের বলেন, দুর্গাপুর বাজারে গরুর চমড়া কেনার যদি দুই একটা ব্যবসায়ী থাকেও তাও আবার ছাগলের চামড়া কেনার জন্য কেউ আসেনি। তিনি ছাগলের কাঁচা চামড়া বিক্রি করেছেন প্রতি পিস ১০-১৫ টাকায়।
নাটোরের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত বছরে দুর্গাপুর বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া ১২শ’ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এবছরে সেই মানের চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে ৬শ’ টাকারও কম দামে। বিগত দুই যুগেও চামড়ার এমন দরপতন হয়নি।
দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের মৌসুমী কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, এবার আমরা চামড়া নিচ্ছি না। বাজার খুব খারাপ। বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা এবার আগে থেকে সাবধান করে দিয়েছেন। সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, ঢাকার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে চামড়ায় ত্রুটি দেখিয়ে সেই দাম দেয় না। যার কারণে এবছরে চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় ১০ টাকা দরে প্রতিটি ছাগী ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে। গত সোমবার ঈদুল আযহার দিন দুপুরে কোরবানির পশুর চামড়া ফড়িয়াদের গ্রামে গ্রামে ঘুরে এ চামড়া কিনতে দেখা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে আড়ানী গোচর গ্রামের ফড়িয়ার চামড়া ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, চাহিদা না থাকায় ছাগী ছাগলের একটি চামড়া ১০ টাকা দরে ক্রয় করছি। এ দামে কিনে নিয়ে স্থানীয় আড়তে বিক্রি করব। পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে একটি ছাগী ছাগলে চামড়াতে এক থেকে দুই টাকা লাভের আশা করছি।
আড়ানী গোচর গ্রামের সমাজ প্রধান আকরাম আলী বলেন, চামড়ার কোন চাহিদা নেই। কোরবানির পশুর চামড়া কেউ কিনতে চাচ্ছিলনা। অবশেষে স্থানীয় একজন ফড়িয়া আসলে খাসী ছাগলের চামড়া প্রতিটি ৫০ টাকা আর ছাগী ছাগলের চামড়া ১০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। গত বছর যে দাম ছিল তার চেয়ে দ্বিগুন দাম কমে চামড়া বিক্রি করেছি।
আড়ানীর চামড়া আড়তদার ইলিয়াস হোসেন বলেন, চাহিদা না থাকায় চামড়া কম দামে নিতে হচ্ছে। এ চামড়া কিনেও লাভ হবে কিনা জানা নেই। তারপরও কিনেছি। ফড়িয়ারদের কাছে দুই/এক টাকা বেশি দিয়ে চামড়া কিনেছি। এছাড়াও সমাজ প্রধানের প্রতিনিধিরা চামড়া নিয়ে আসছেন। তাদেরও কাছে থেকে ফড়িয়ারদের মতো দাম দিয়ে কিনেছি।
চারঘাট: বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রতিটি ছাগলের চামড়ার দাম ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, প্রতিটি গরু চামড়া দাম ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকা দরে কিনেছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী মামুনুর রহমান মামুন জানান, ইজাদাররা এলাকা থেকে কম দামে ছাগল চামড়া ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং গরু চামড়া ২শ টাকা থেকে ৩শ টাকার মধ্যে ক্রয় করতে বলেছেন। আমরা সে অনুযায়ী চামড়া কিনছি। গওরা গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী সালাম বলেন, মাহাজনের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা চামড়া কিনছি। চারঘাট সদরের সমাজ প্রধান হাবিবুর রহমান জানান, আগের বছরের চেয়ে এবার চামড়ার দাম অনেক কম। একটি ছাগলের চামড়া দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং গরু দাম ২শ টাকা বলছে। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা গড়িয়ে এলে পরে পানির দামে বিক্রি করে দেয়া হয়। আবার অনেকে ঢোল তাবলা তৈরির জন্য ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনামূল্যে চামড়া দিয়ে দেয়। মিয়াপুর গ্রামের ময়েন উদ্দিন পিন্টু জানান, অনেক সমাজে চামড়ার দাম না থাকায় মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়।
এব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এবিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং এসব চামড়া ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন সমাজে জমা হওয়া চামড়াগুলো বিক্রি করতে এবার বেগ পেতে হয়েছে কমিটিগুলোকে। শহরের স্বরুপনগরের জামায়াতের চামড়া বিক্রির দ্বায়িত্বে থাকা আবদুল খালেক বলেন, কয়েক বছর আগে যেখানে একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী আসতো চামড়া ক্রয় করতে, সেখানে এবার অনেক অনুরোধ করেই বিক্রি করতে হয়েছে। গরুর চামড়া ৩৩০ টাকা পেলেও খাসির চামড়া মাত্র ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মনজুর হোসেন বলেন, গত বারের চামড়ার মূল্য ট্যানারী মালিকরা পরিশোধ না করায়, তারল্য সংকটের কারণে তারা এবার বেশি দরে চামড়া কিনতে ঝূঁকি নিতে পারেননি। ছোট চামড়ার দাম ২৫০-৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় চামড়া ৪০০-৫০০ টাকায় ক্রয় করেছন। এছাড়া, খাসির চামড়া মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকায় ক্রয় করেছেন।
তিনি বলেন, সরকার যে চামড়া রফতানির সুযোগ দিয়েছে, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। যদিও এখন এ সিদ্ধান্তে খুব বেশি লাভবান হওয়া যাবে না, এটা যদি ১০ দিন আগে হত তাহলে পরিস্থিতি আরো ভাল হত, গরুর চামড়ার দাম ১০০টাকা দেখতে হত না।
নাচোল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে কোরবানির চামড়া এলাকার পাড়া-মহল্লা থেকে এসে জড়ো হয় মোড়ল-সর্দারদের উঠোনে। ভিন্ন ভিন্ন স্তুপ করে রাখা হয় গরু ও ছাগলের চামড়া। কিন্তু ক্রেতা-ফড়িয়াদের নেই কোন হুড়োহুড়ি। মাঝে মধ্যে দু’এক জন ক্রেতা এলেও দরে দামে তেমন নেই কোন ডাক-হাঁক। উপজেলা সদর ও পৌর এলাকার যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভলো সেখানে ছাগলের চামড়ার দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং গরু ১২০ থেকে ১৮০ টাকা পাওয়া গেলেও মফস্বল এলাকায় মোবাইল ফোনে ডেকে ডেকে পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে চামড়া। সে ক্ষেত্রে মফস্বল এলাকায় ছাগলের চামড়ার দাম পাওয়া গেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং গরুর চামড়ার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। যেখানে গত বছর নাচোলে কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে গরু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ছাগল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
নাচোল পৌর এলাকার এক মোড়ল নুরুজ্জামান বাদল জানান, গত বছর চামড়া বিক্রি করে টাকা পেয়ে ছিলেন ৩৮ হাজার ৬৫০ টাকা। চামড়া বিক্রির টাকা বিতরণ করা হয় ঈদের পরদিন। প্রতি বছর চামড়া বিক্রির প্রাপ্ত টাকা বিতরণের ধারণা এবং স্থানীয় ও দূর-দূরন্তের দুস্থ-ইয়াতিমদের চাহিদানুযায়ী একটা সাধারণ তালিকা থাকে। সে অনুযায়ী গত বছরের চামড়ার টাকা বিতরণ করা হয় আগত ইয়াতিম ও দুস্থদেরকে। কিন্তু এবার চামড়া বিক্রি করে পাওয়া গেছে মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে তিন ভাগের এক ভাগ টাকা। ওই টাকা বিতরণ শেষে অনেকেই টাকা না পেয়ে বেশ হতাশার মধ্যে দিয়ে ফিরে গেছে।
নাটোর: উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়া বাজারের নাটোরের চামড়া ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দিশেহারা বিভিন্ন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। নাটোরের আড়ৎদারা খাসির চামড়া কিনছে মাত্র ১০টাকা পিস। গরুর চামড়া কিনছে ৩শ থেকে ৫শ টাকা পিস। ট্যানারী মালিকদের নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে চামড়া এখানে কেনা হলেও ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দের দাবি ট্যানারী মালিকদের বেঁধে দামেই কেনা হচ্ছে চামড়া। গত বারের চেয়ে এবছর প্রচুর আমদানী হওয়ায় দাম পাচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা । প্রতিবছর শুধু কোরবানি ঈদেই ১৫ থেকে ১৬ লাখ পশুর কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা হয় নাটোরের এই মোকামে। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ঈদের পরের দিন চামড়া আমদানী কম দেখা গেছে এবং বাজারে চামড়ার দামও অনেক কম হওয়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাদের চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন তারা।
অপরদিকে নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা দুষছেন ট্যনারী মালিকদেরকে। তারা বলছেন, ট্যনারী মালিকদেরা তাদের পাওনা টাকা শোধ না করায় তারা চামড়া কিনতে পারছেন না । তবে নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির দাবি তারা ট্যানারী মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া কিনছেন।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজারটি অবস্থিত। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক চামড়ার আড়ত রয়েছে এই কাঁচা চামড়ার মোকাম। প্রতি বছর শুধুমাত্র কোরবানি ঈদের সময়েই দেশের মোট চামড়ার ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ চামড়া বেচাকেনা হয় এই মোকামে। উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথে চামড়ার আড়ৎগুলোতে আসছে কোরবানির চামড়া। অন্য জেলার চামড়ার ব্যবসায়ীরা সরকারিভাবে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নাটোরে আনেন। তবে এখানকার আড়তদারদের দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন অন্য জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। নাটোরের আড়ৎগুলোতে খাসির চামড়া ১০টাকা পিস এবং গরুর চামড়া ৩শ খেকে ৫শ টাকায় কেনায় লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। চামড়ার দাম না পেয়ে বাইরের জেলার অনেক ব্যবসায়ী এখানে চামড়া লবনজাত করে ফিরে যাচ্ছেন। আবার লবনজাত করতে গিয়ে শ্রমিক সংকটে পড়ছেন বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা। নাটোরের প্রায় দেড়’শ আড়ৎ থেকে গত বছর কোবানির পর দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১১ লাখ পিস চামড়া বিক্রি হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার করশালিকা গ্রামের মৌসুমী ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, তিনি সাড়ে তিনশটি প্রতিটি গরুর চামড়া প্রকার ভেদে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে কিনেছেন। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। কারণ হিসেবে তারা বলছে সময়মত লবন দিতে না পারলে তাদের চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। এরফলে মোকামে চামড়া এনে বিক্রি করতে গিয়ে অনেকে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
জেলার সিংড়া উপজেলার পুঠিমারী গ্রামের কৃষক মোক্তার আলী জানান, স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে ২৭টি গরু, ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ৮০টি খাসি ও ছাগল ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে কিনে তা আড়ৎগুলোতে বিক্রি হয়েছে গড়ে গরুড় চামড়া ৩৪০ টাকা এবং খাসির চামড়া গড় ৩৫ টাকা দরে। কোন প্রকার ফুট ভাবে চামড়া বিক্রি হয়নি।
এদিকে নাটোরের আড়ৎদাররা বলছেন, তারা চামড়া কিনে ঢাকায় ট্যানারী মালিকদের কাছে বিক্রি করার পর সেই টাকা তারা সময়মত পাচ্ছেন না। এতে করে টাকা না থাকায় তারা চামড়াও কিনতে পারছেন না।
নাটোর জেলা চামড়া ব্যাবসায়ী গ্রুপের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, দেশের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মার্কেট থেকে মোট চামড়ার ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ নাটোর বাজার থেকে সরবরাহ করা হয়। চামড়া নাটোর বাজারে আসা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সমস্ত চামড়া এসে যাবে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী তারা চামড়া কিনছেন। মৌসুমি ব্যাবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেশি দামে চামড়া কিনছেন। পরে তারা নাটোর বাজারে বিক্রি করতে এসে লোকসানে পড়ছেন। তবে ট্যানারী মালিকদের টাকা না পাওয়ায় চামড়া কিনতে সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
চামড়ার এই অস্বাভাবিক কম দামের কারণে পথে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়িরা। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্তহ হচ্ছেন চামড়ার টাকা সহায়তা পাওয়া দরিদ্র মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্ট সকলের।
বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে সরেজমি ঘুরে দেখা যায়, গরুর চামড়া আকার ভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা, ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিবছর এমিত খানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে চামড়া সংগ্রহ করতে এবার তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি।
মালিপাড়া এতিম খানার মাওলানা আবদুর রহমান জানান, প্রতি বছর নাটোর থেকে চামড়া ব্যবসায়ীরা আগাম বায়না করে যেতেন চামড়ার জন্য এবার উল্টো তারা বলে গেছেন চামড়া কিনবেন না। বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নিয়ে কি করবো। তাই আর কষ্ট করে চামড়া নিতে যাইনি। যদি চামড়া বিক্রির আয় দিয়ে এতিম খানা চালানোর বার্ষিক বড় একটা অংশের অর্থের যোগান হতো।
কালিকাপুর নতুন বাজার এলাকার কোরবানির চামরা নিয়ে বিপাকে পড়েন হাকিমুর রহমান, আতিকুর মৃধা, উমিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামরা, তারা বলেন দিন শেষেও কোন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধায় এক কসাই এসে জানান, দুই গরু, তিন ছাগলের চামড়া ৩০০ টাকা। অবশেষে তাই দিয়ে দিতে হলো।
কথা বলতে গিয়ে চামড়া কেনার ফরিয়া বনপাড়ার মোবারক মৃধা, কয়েন এলাকার মানিক কসাই জানান, এবার আমরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কিনছি। বিক্রি করতে পারবো কিনা এটা অজানা। আবার লবন কিনতে হচ্ছে চড়া দামে ফলে সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে গেছে।
নওগাঁ: নওগাঁয় এই কোরবানি ঈদে ৫০-৬০হাজার গরু, ৩০-৪০হাজার ছাগল ও ১০-২০ হাজার ভেড়ার চামড়া ক্রয় করা হয়েছে বলে জানান জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি।
জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের বাচ্চু মিয়া বলেন, ৪৮হাজার টাকা দামের বকনা গরু দিয়ে এবার কোরবানি দিয়েছেন। ভাল দামের আশায় ৫ কিলোমিটার দুর থেকে দেলুয়াবাড়ি হাটে চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। দাম চেয়ে ছিলেন ৪শ টাকা। কিন্ত ফড়িয়ারা ১২০ টাকা চামড়ার দাম বলেন। অবশেষে ওই দামে বাচ্চু মিয়াকে চামড়া দিতে হয়েছে।
চককানু গ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, ছাগল কোরবানি দিয়ে হাটে চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন। ফড়িয়ারা চামড়া দাম ১০ টাকা বলায় তিনি হতবাক হয়ে যান। খাজনা দিতে হবে ৫ টাকা। এজন্য তিনি ফ্রিতে চামড়া ফড়িয়াদের দিয়ে দিয়েছেন।
কালীসফা গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, ছাগলের চামড়া ১০-১৫ টাকা দাম। ওই দামে চামড়া কিনে লবন ও শ্রমিক দিয়ে আরো ১০ টাকাসহ মোট ২০ টাকা খরচ হবে। কিন্তু সেই দামে তো আমরা বিক্রি করতে পারব না। অনেকে ছাগলের চামড়া ফ্রি দিয়েছেন।
মান্দার পাকুড়িয়া গ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ী সিদ্দিক বলেন, এবার চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা না হাটে না আসায় চামড়া দাম পানির দর। ষাড়ের চামড়া ৩শ টাকা করে কিনে ২০০-২৫০ টাকা বিক্রি করতে হয়েছে।
জেলার রাণীনগর উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের আনছার আলী জানান, আমার ৩০বছরের জীবনে কোরবানির চামড়ার এমন করুণদশা দেখিনি। এবার কোরবানির চামড়ার ক্রেতা নেই। ক্রেতা না থাকায় আমার ছাগলের চামড়া কেউ না নেওয়ার কারণে চামড়া আমি মাটিতে পুঁতে দিয়েছে।
ঈশ্বরদী: যশোর, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের পর উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় চামড়ার মোকাম ঈশ্বরদীতে এবার ঈদের পর চামড়া কেনার মত কেউ নেই। ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা গত সোমবার ঈদের দিন ও পরদিন মঙ্গলবার ঈশ্বরদী, চাটমোহর, আটঘোরিয়া, ভেড়ামারা, লালপুরসহ আশেপাশের কয়েক উপজেলা থেকে প্রচুর পরিমানে চামড়া কিনে ঈশ্বরদীতে নিয়ে এলেও মোকামে চামড়া কেনার মত ব্যাবসায়ীরা না আসায় বিপাকে পড়েছেন এই এলাকার শত শত চামড়া ব্যবাসায়ীরা। গত ঈদেও এই মোকামে প্রায় ১১ কোটি টাকার চামড়া বিক্রি হয়েছিল অথচ এবার দাম কম হওয়ায় দামের হিসেব করা তো দুরের কথা ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, এসব চামড়ার মধ্যে স্থানীয়ভাবে জবাই করা কোরবানির পশু এবং ঈশ্বরদীর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর চামড়ার আমদানি হয়। কিন্তু এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় এবার ঈদে চামড়ার বাজারে ফড়িয়া দালাল আর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের খুব একটা দেখা যায়নি, ফলে এবার চামড়ার আমদানিও গত বছরের তুলনায় অনেক কম ছিল। ঈদের দিন সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী শহরের রেলওয়ে গেটে চামড়ার মোকামে গিয়ে দেখা গেছে, স্তুপ স্তুপ চামড়া পড়ে আছে কেনার লোক নেই। ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত এসব চামড়া ব্যবসায়ীদের গুদামে এখনো বিক্রির অপেক্ষায় ঈশ্বরদীতেই পড়ে আছে।
ঈশ্বরদী চামড়া মোকামের নিয়মিত ব্যবসায়ী আশাদুজ্জামান আশা জানান, এবার ঈদুল আজহায় প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে ২ থেকে ৩শ’ টাকায় এবং প্রতিটি খাসির চামড়া গড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বেচা-কেনা হয়। এদিকে ঈদের আগে চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়ায় ঈশ্বরদীর চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেও বিপাকে পড়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিক কিংবা ঢাকা ও নওয়াপাড়ার বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও পেয়েছেন অনেক কম, যা পেয়েছেন তা নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। চামড়া ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতে খাসির চামড়ার দাম বেশি ও চাহিদা থাকায় ‘চুপে-চাপে’ নদী পথে ভারতে চামড়া পাচার করতো ঈশ্বরদীর একটি চক্র। কিন্তু এবার ভারতেও চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়া ও সেখানকার বাজারে চামড়ার দাম কমার কারণে ঈশ্বরদী থেকে পশু চামড়া ভারতে পাচার করা সে চক্রটিও এখন সক্রিয় নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ঈদে কেনা সব চামড়া এখন ঈশ্বরদীতেই বিভিন্ন চামড়ার আড়তে বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে আছে। ঢাকা কিংবা নওয়াপাড়ার কোন ট্যানারী মালিকরা এখন পর্যন্ত চামড়া কিনতে রাজি হননি বলে জানান ঈশ্বরদীর চামড়া ব্যবসায়ীরা।
চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হায়দার আলী জানান, লবণ দিয়ে কোনমতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে এসব চামড়া, ঈশ্বরদীর চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন বলে জানান তারা।