রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র শীতে জড়সড় মানুষ, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আট ডিগ্রি সেলসিয়াস

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র শীতে জড়সড় হয়ে পড়েছে মানুষজন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। এতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই আবহাওয়া আগামি কয়েকদিন বজায় থাকবে। মৃদু শৈত্য প্রবাহ রূপ নেবে মাঝারি আকারের শৈত্য প্রবাহে ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার ছিলো ১১ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার তাপমাত্রা ছিলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায়।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা দ্রুততার সাথে কমছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবারÑএই চার দিনে তাপমাত্রা কমেছে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইসাথে সর্বনি¤্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসছে। গতকাল সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিলো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন যা ছিলো ১৩ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আশরাফুল আলম জানান, দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নামলে সাধারণত শৈত্য প্রবাহ হয়। সেই হিসেবে এখন মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইছে বলা যায়। এই মৃদু শৈত্য প্রবাহ এ মাসেই মাঝারি শৈত্য প্রবাহে রূপ নেবে। আগামি কয়েকদিন এই আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত বেশ ঠান্ডা পড়ে। সে হিসেবে এবছর ডিসেম্বর মাসে খুব বেশি ঠান্ডা পড়েনি। যা গত চারদিন ধরে পড়ছে। একইসাথে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤্ন তাপমাত্রার ব্যবধানও কমে যাবে।
এদিকে তীব্র শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে রাজশাহীবাসী। বেলা গড়িয়ে গেলেও দেখা মেলেনি সূর্যের। মধ্যরাত থেকেই ঘন কুয়াশায় ছেয়ে ছিলো রাজশাহীর পথ-ঘাট, প্রান্তর। যা দুপুর অবধি বজায় ছিলো। দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললে কুয়াশার চাদর কেটে যায়। সকালে রাস্তায় লোকজনও ছিলো হাতেগোনা কয়েকজন।
আলুপট্টি মোড়ের চা বিক্রেতা সোহেল রানা জানান, সকাল সাড়ে আটটায় দোকান খুলেছি। কোনো ক্রেতা নেই। একদম ফাঁকা। ১১ টার আগে হাতেগোনা কয়েকজন লোক এসে চা পান করেছে। আবার রাতেও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। রাত নয়টার আগেই মোড় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া থেকে আগত মওদুদ রানা বলেন, রাজশাহীর শীতের নাম শুনেছি। কিন্তু তখনো বুঝিনি এত শীত। সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারছিনা। শরীরের মধ্যে ফুঁড়ে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস।
রিকশাচালক ইয়াকুব বলেন, এত ঠান্ডা পড়েছে যে রাস্তায় বের হওয়াই যাচ্ছে না। তারপরও তো উপায় নাই। কাজ করেেত হবে। হাত বের করলে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে।
শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেছে ক্রেতারা। শীতের কারণে বিক্রিও বেড়েছে বেশি। সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী তৌহিদুল জানান, তিনশ টাকার মধ্যে ভালো শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা কিনছেনও। অন্য সময়ের চেয়ে বিক্রি বেশি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই অবস্থা বিরাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, বগুড়া ও দিনাজপুরে। সেই সব জেলার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তীব্র শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে মানুষজন। তীব্র শীত থেকে রেহাই পেতে ভিড় জমাচ্ছে গরম কাপড়ের দোকানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় চাঁপাইনবাগঞ্জের পথ-ঘাট। ঘন কুয়াশার কারণে কাছের বস্তুও দেখা যায়নি। বেলা বাড়লেও দেখা মেলেনি সূর্যের। তীব্র শীতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে মানুষজন।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, শীতের প্রকোপে নাজেহাল হয়ে গেছে নাটোরবাসী। সেখানে তীব্র শীত থেকে বাঁচতে লোকজন ভিড় জমাচ্ছে গরম কাপড়ের দোকানে। নওগাঁতে শীতের দাপটও প্রকট। একই অবস্থা জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে। সেখানে প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে খুব একটা কাজ না থাকলে ঘর থেকে বের হয়নি মানুষজন। রাস্তাঘাটে লোকজন ছিলো খুব অল্প।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল দিনাজপুরে ছিলো এ মৌসুমের সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা। ওই দিন দিনাজপুরে সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় আট দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দিনাজপুরে বাতাসের আর্দ্রতা খুব বেশি ছিলো।
প্রতিবছর শীতে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। শিশুরা বিশেষ করে ডায়রিয়া, আমাশয়, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি ভর্তি হয় হাসপাতালগুলোতে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছানাউল হক মিঞা জানান, ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে খুব বেশি ভর্তি হয়নি। তবে শীতের প্রকোপ এইভাবে বাড়লে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, শীতে নিউমোনিয়া, জন্ডিস, সর্দি, কাশি, জ্বর, ব্রঙ্কাইটিস ও ডায়রিয়ায় আক্রাশ বেশি হয় শিশুরা। এইজন্য শিশুরা যেন কুয়াশার সংস্পর্শে না যায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।