রাজশাহী জেগে আছে, আমরাও জেগে আছি

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

বিশেষ সম্পাদকীয়


নতুন বছর এলো। ২০১১ সালের এই দিনটিতে দৈনিক সোনার দেশ তার নবযাত্রার সূচনা করে। কালের পরিক্রমায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই পত্রিকাটি নতুন করে যাত্রা শুরুর পর ইতোমধ্যে ৭ বছর পার করে এসেছে। আজ অষ্টম বছরে পদার্পণ করলো। অনেক চবাই-উতরাইয়ের পর সোনার দেশ তার সীমিত সামর্থ নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের ভালবাসা নিয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই পথচলার সময়টা মোটেও মসৃণ ছিল না। বার বার বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, হোঁচট খেতে হয়েছেÑ তারপরও পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের সমর্থনে এগিয়ে চলেছে। সোনার দেশে অনেক বন্ধু এসেছেন, আবার চলে গেছেনÑ সবারই অভিজ্ঞতা ও মেধায় সোনার দেশ পুষ্ট হয়েছে। কেউ বা সোনার দেশের সব আয়োজন ভেঙ্গে ফেলার নিরন্তর চেষ্টা করেছে বা এখনো করে চলেছেÑ তবুও সোনার দেশ তার আপন মহিমা নিয়ে প্রতিদিন এক নতুন সকালের সূচনা করে চলেছে।
রাজধানীর বাইরে ৮ পাতার পত্রিকা বের করা সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। সেই কঠিনের ব্রত নিয়ে সোনার দেশের পথচলা। সেই আবেগ, সেই প্রত্রিশ্রুতি, সেই চ্যালেঞ্জ অটুট আছে- যেমন সূচনায় ছিল। দৃঢ়তর সেই অঙ্গীকার আগামীতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উদ্ভাস, বহুত্ববাদী দর্শনের প্রতি নিবিড় আস্থা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং নারী ও শিশুর অধিকারের লড়াইয়ে সোনার দেশ সবসময় অগ্রসর ভাবনার একটি পত্রিকা। জনগণের শক্তির সাথে, তাদের হৃদয়ের সুরের সাথে সোনার দেশের যে বন্ধন রাখি তাই সোনার দেশকে শীর্ষ দৈনিকের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে। সোনার দেশ পরিবার গৌরবান্বিত।
পথচলার সাত বছরে অনেকের অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শে আমরা ঋদ্ধ হয়েছি। সীমিত সামর্থের মধ্যেও ওই সব পরামর্শ কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিপালন করার চেষ্টা করেছি। আমরা আরো পরামর্শে নিজেদের উদ্ভাসিত করতে চাই। ভালোর তো কোনো শেষ নেই, আমরা সব ভালোর মধ্যেই থাকতে চাই। তবে একটি আধুনিক সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন তার পুরোটা এখনো আমরা অর্জন করতে পারিনি। এ দায়ভার অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছি। খুব শিগগিরই আমরা একটি উন্নত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
রাজশাহীতে নতুন ধারার সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে সোনার দেশ নবযাত্রার শুরুটা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সাহসী ও দৃপ্ত পথচলায় কোনো ক্ষান্তি ছিল না। এখনো বুকের মধ্যে সেই অঙ্গীকার রক্ষারই দৃঢ়তাপূর্ণ ঘোষণা। অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চাদপদ রাজশাহী অঞ্চল থেকে আট পাতার একটি দৈনিক প্রকাশ করার কাজটি মোটেও সহজ নয়। দৈনিক করতোয়া এখন রাজধানী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে- বিধায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর রাজশাহী মহানগরী থেকেই আট পাতার সোনার দেশ নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। সন্দেহ নেই সোনার দেশ এর নবযাত্রা ছিল একটি সাহসী পদক্ষেপ।
একটি দৈনিক পত্রিকা টিকে থাকার জন্য এর অর্থনৈতিক ভিত্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিটা মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পাঠকপ্রিয়তার সাথে সাথে বিজ্ঞাপন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞাপনই একটি দৈনিকের বিকাশ, সম্প্রসারণ কিংবা টিকে থাকার প্রধান উপাদান। সেই অর্থে রাজশাহী অঞ্চলের বিজ্ঞাপন বাজার খুবই সীমিত। বিজ্ঞাপন বাজারেও বিরাজ করছে চরম নৈরাজ্য- বিশৃঙ্খলা। সুস্থ ধারার আঞ্চলিক দৈনিকের জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ।
সীমাবদ্ধতা খুবই স্বাভাবিক, সোনার দেশ প্রকাশনার ক্ষেত্রেও তা ছিল। সীমাবদ্ধতা কখনো কখনো খুব প্রকট হয়ে সোনার দেশ পরিবারের দক্ষতা অভিজ্ঞতা ও সামর্থের গলা চেপে ধরেছে। কিন্তু সাহস ও সততাই যাদের কর্মের উদ্দীপনা, তাদের পরাজিত করা সহজ নয়। পথ কণ্ঠাকীর্ণ হয়েছে বলে সোনার দেশের পথচলা থেমে থাকেনি। সাথীদের শপথ ভঙ্গের যন্ত্রণাও বারবার চলার পথকে ঝাঁপসা করেছে।, কিন্তু পথই পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়েছে। এই সাহস ও অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা- সবই পাঠক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া। তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্যই সোনার দেশ এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছেÑ এই আস্থার বন্ধন, শক্তি ও সাহসের সঞ্চালন। আমরা কৃতজ্ঞ সোনার দেশের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে। অষ্টম বছরের পথচলার শুরুতে আবারো সেই অঙ্গীকার, সেই প্রত্যয়ের ঘোষণাÑ রাজশাহী জেগে আছে, আমরাও জেগে আছি। যা ঘটে তা তুলে ধরার প্রচেষ্টা প্রতিদিনইÑএকই রকম, এখনো আছে।
প্রিয় পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভান্যুধায়ী রাজশাহী অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে সোনার দেশের নবযাত্রার অষ্টম বছরে আপনাকে স্বাগত জানাই। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা রইল।