রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মোহনপুরে জনভোগান্তি চরমে

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

মোস্তফা কামাল, মোহনপুর


মোহনপুরে মহাসড়কের বেহাল দশা সোনার দেশ

উত্তরাঞ্চলের খুব ব্যস্ততম মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক। সকলপ্রকার যানবাহন ও পথচারিদের চলাচলচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে এ সড়কটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ নির্মাণ কাজের ঠিকাকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতার কারণেই জনভোগান্তি বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যস্ততম এ আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় গতবছরের প্রথম দিকে । নির্মাণ কাজ শুরুর দিক থেকে নওগাঁ সীমানার কাজ দ্রুত শেষ করা হয়েছে। বিভিন্নস্থানে ভাঙা স্থানে দূর হতে মাটি এনে ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে। খরা মৌসুমে নির্মাণ কাজ করার জন্য জনভোগান্তিরোধে নিয়মিত পানি ছিটানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী উত্তর সীমানা হতে নওহাটা ব্রীজঘাট পর্যন্ত সর্বাধিক ব্যস্ততম সড়ক হলেও কাজ করা হচ্ছে ধীর গতিতে। শুষ্ক মৌসুমে দেয়া হয়নি পানি ফলে ধূলিবালিতে যানবাহন চলাচল করেছে চরম ঝুঁকিতেই। রাস্তার ধার কেটে তৈরি করা হয়েছে ফুটপাত। এখন বর্ষা মৌসুমে ফুটপাত ভেঙে আবারো ওই গর্ত ভরাট হচ্ছে। মোহনপুরের মৌগাছি থেকে কামারপাড়া অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার পূর্বের কার্পেটিং তুলে রাখা হয়েছে প্রায় দুই মাস ধরে। মূল সড়ক নিচু আর ফুটপাত উঁচুর কারণে পানি নিষ্কাশন হতে না পেয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এ রাস্তার সর্বোচ্চ বিপদজনক স্থানে পরিণত হয়ে পড়েছে কেশরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এছাড়াও বাজার এলাকায় মহাড়কের নির্মাণাধীন উঁচু ড্রেনেজে তৈরির ফলে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে কেশরহাট-কামারগাঁ সংযোগ সড়কটির। ফলে বাণিজ্যিক ও শিক্ষাকেন্দ্রিক কেশরহাট পৌর এলাকার জনসাধারণসহ স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের চরম দুর্দশায় ভুগছেন। এজন্য এসব বিষয়ে দ্রƒত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
মহাসড়কের সংলগ্ন ভ্যাটেনারী ওষধ ব্যবসায়ি শফিকুল ইসলাম বলেন রাস্তাটির নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে হওয়ার পাশাপাশি কার্পেটিং তুলে রাখার জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। এর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
জানতে চাইলে কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, মহাসড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। রাস্তার কার্পেটিং তুলে রেখে সরে থাকা এটা আসলে যৌক্তিক নয়। রাস্তার উপরে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে আছে। এটা চরম ভোগান্তি। জনভোগান্তি রোধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ ইউনুছ আলী জানান, খুব দ্রুততার সাথে কাজ এগোচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও বাদলের কারণে কয়েকদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। তারপরও আশা করা যাচ্ছে আগামি ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ