রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌথ সভা || ১৩ জুলাই থেকে উত্তরাঞ্চলে পরিবহণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৮, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ফেডারেশেনের যৌথ সভা সিরাজগঞ্জ পৌর কনভেশন হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পাবনা-বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রুটে বাস চলাচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আগামী ১৩ জুলাই থেকে উত্তরাঞ্চলে পরিবহণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে সিরাজগঞ্জ পৌর কনভেনশন হলরুমে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের যৌথ সভা শেষে এ ঘোষণা দেন সিরাজগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সভাপতি জিন্নাহ আলমাজি। তিনি বলেন, শাহজাদপুর দিয়ে পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকার বাস চলাচলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ১৩ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগে সকল জেলার গাড়ী অন্য সকল জেলায় চলাচলসহ সভায় ৬টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ সময় শাহজাদপুর উপজেলা বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানী ও সংগঠন বিরোধী কর্মকা-সহ নৈরাজ্যের অভিযোগ আনে বক্তারা। সভায় পাবনা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলার বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সরাসরি এসব অভিযোগ করেন।
এদিকে, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা সদর থেকে রাজশাহীগামী এমএস পরিববহন, সাব্বির এন্টারপ্রাইজ ও জেনিন সার্ভিসের ৩টি বাসের রুট নিয়ে চলমান দ্বন্দ্ব গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫ টা পর্যন্ত নিরসন হয়নি। অন্যদিকে, উল্লেখিত দ্বন্দ্বের জের ধরে গত মঙ্গলবার (৩ জুলাই) থেকে সিরাজগঞ্জ-শাহজাদপুর-পাবনা, পাবনা-শাহজাদপুর-সিরাজগঞ্জ এবং ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-পাবনা ও পাবনা-সিরাজগঞ্জ-ঢাকা থেকে শাহজাদপুর হয়ে বাস চলাচল সরাসরি বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন যাত্রীরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল হাদি আলমাজি জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল লতিফ মন্ডল, কার্যকরী সভাপতি রফিকুল ইসলাম, বগুড়া বাস সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান মিলন, পাবনা বাস মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি বেবী ইসলাম, পাবনা বাস মালিক গ্রুপের নেতা মোশারোফ হোসেন খোকন, পাবনা বাস মালিক গ্রুপের নেতা আবুল হোসাইন খান রেয়ন, চাপাইনবাবগঞ্জ ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান, রাজশাহী জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ আলী, নাটোর জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আলম, পাবনা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন খান, কাশিনাথপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলম হোসেন, উল্লাপাড়া ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক নেতা আহসান উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন, সাংগঠনিক মনির হোসেন, জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন দুলু প্রমুখ। পাবনা বাস মালিক গ্রুপের সাবেক সভাপতি বেবী ইসলাম সভায় বলেন, এই সব দাবির মধ্যে চাঁদাবাজীও বন্ধ করতে হবে।
পাবনার সরকার ট্রাভেলস মালিক এমএ কাফী সরকার বলেন, পাবনার মালিকদের কোন দোষ না থাকলেও অহেতুক শাহজাদপুরের উপর দিয়ে পাবনার গাড়ী চলতে দেওয়া হচ্ছেনা। এতে করে যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়ছে এবং বাস মালিকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাবনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিনের সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, পুলিশের চেয়ে শাহজাদপুর বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা খারাপ। তাদের চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য ও নির্যাতনের কারনে উত্তরাঞ্চলের বাস মালিক ও শ্রমিকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। দলভিত্তিক গুন্ডবাহিনী দিয়ে তারা গত ৩ দিন থেকে হঠকারীভাবে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। তারা একটি বাসের রুটের কারণে গত মঙ্গলবার রাতে পাবনা থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের দু’টি বাসের গ্লাস ভাঙচুর ও হেলপারদের মারপিটও করেছে। রাজশাহী নেতাদের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি।
কাশিনাথপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলম হোসেন বলেন, পরিবহন সেক্টরের নীতিমালা বর্হিভুত হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা গত ৩দিন আগে হঠাৎ বাস বন্ধ করে দেয়। তারা এ ধরনের কাজ প্রায়ই করে থাকে, কেউ বলার নেই।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজাদপুর উপজেলা বাস মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক লিয়াকত হোসেন বলেন, শাহজাদপুর থেকে রাজশাহীগামী এমএস পরিবহন ও উল্লাপাড়া থেকে ‘সাব্বির পরিবহনের দু’টি বাস চলাচল নিয়ে মুলত এ দ্বন্দ্ব¦। ৩ মাস হলো শাহজাদপুরে এমএস পরিবহন বাস বন্ধ রাখা হলেও উল্লাপাড়ার সাব্বির পরিবহন বাসটি বর্তমানে চলছে। গত ক’দিন আগে সিরাজগঞ্জ জেলার নেতারা শাহজাদপুর থেকে রাজশাহীর দিকে ৪টি বাস চালাবেন বলে আমাদের চিঠি দেন। জেনিন নামের একটি উদ্বোধনী বাস তারা পাঠিয়ে দেন। এমএস পরিবহনের বাসের সঙ্গে আগে সেই দ্বন্দ্ব নিরসন ছাড়া আমরা এসব নিয়ে আলোচনায় রাজি হই নি। এরপর সিরাজগঞ্জ জেলার মালিক-শ্রমিক নেতারাই আগে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে আমরা বন্ধ করি।