রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে উত্তেজনা || আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চেয়ারে বসলেন ড. ওয়ালিউর

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যাপক ড. ওয়ালিউল আলম। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় তাকে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করেছে। কিন্তু এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন উচ্চ আদালত। তারপরেও ‘জোর করে’ রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষর চেয়ার ‘দখল’ করলেন ড. ওয়ালিউল আলম। তিনি নিজে নিজেই যোগদান করেছেন। সদ্য বিদায়ি অধ্যক্ষ প্রফেসর দিলরোজ আরা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শওকত আলী খানের কাছে।
এ নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তারা বলছেন, আদালত পদায়নের আদেশ স্থগিত করে দেয়ায় ড. ওয়ালিউল আলম রাজশাহী টিটিসির কেউ নন। তারপরেও বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি গায়ের জোরে কলেজ অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে নিয়েছেন। তারা এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাজশাহী ছাড়াও খুলনা ও চট্টগ্রাম টিটিসিতে নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন করে। বিভিন্ন সরকারি কলেজ থেকে তাদের টিটিসিতে পদায়ন করা হয়। রাজশাহী টিটিসিতে অধ্যক্ষ হিসেবে ড. ওয়ালিউল আলমের যোগদানের দিন ঠিক ছিলো বৃহস্পতিবার।
কিন্তু এরই মধ্যে এই তিন অধ্যক্ষের পদায়নের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট করেন ঢাকা টিটিসির একজন অধ্যাপক। ওই রিটে বলা হয়, ১৯৮১ সালের বিধি অনুযায়ী, টিটিসিতে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হলে টিটিসির শিক্ষককেই নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু এই তিন অধ্যক্ষের ক্ষেত্রে তা না করে টিটিসির শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
তাই রিটকারী ওই অধ্যাপক তিন অধ্যাপকের নিয়োগ স্থগিতের আবেদন করেন। এ নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও একেএম শহীদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই তিন অধ্যক্ষের পদায়নের ব্যাপারে চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আদালতে ব্যাখা দিতেও বলা হয়।
কিন্তু এরই মধ্যে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করলেন ড. ওয়ালিউল আলম। কলেজটির শিক্ষকরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার কলেজের অধ্যক্ষ দিলরোজ আরা অবসরে গেছেন। বৃহস্পতিবার তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়। দিলরোজ আরা কলেজের উপাধ্যক্ষ শওকত আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। তবে এ দিনেই কলেজে যোগ দিতে হাজির হন ড. ওয়ালিউল আলম। এরপর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শওকত আলী খানের কাছে দায়িত্ব বুঝে পেতে চান। কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানিয়ে শওকত আলী খান দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। তারপরেও বিকেলে কর্মচারিদের কাছে চাবি নিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারে গিয়ে বসেন ড. ওয়ালিউল আলম।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শওকত আলী খান বলেন, উচ্চ আদালত তিন টিটিসির অধ্যক্ষের পদায়নে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। তাই তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। এরপরেও রাজশাহীর কয়েকটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ড. ওয়ালিউল আলম জোর করে তার চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েছেন। অথচ স্থগিতাদেশ থাকায় ড. ওয়ালিউল এখন কলেজের কেউ নন বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এসময় কলেজে বিতর্কিত কার্যকলাপের জন্য চিহ্নিত নাবিল নামের এক ছাত্র ড. ওয়ালিউলকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানায়। বিকেলে তিনি অফিস কর্মচারিদের কাছে কলেজে কী কী কর্মকা- চলছেÑ বিশেষত ট্রেনিঙের বিষয়ে জানতে চান। তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত কলেজে অবস্থান করেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ড. ওয়ালিউল আলমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কয়েকদফা ফোন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। একবার অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন, ‘স্যার এখন ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর আরও কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও কেউ ধরেননি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ