বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাজস্ব ঘাটতি ২০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট: December 9, 2019, 1:36 am

সোনার দেশ ডেস্ক


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা কম।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং আয়কর আহরণে প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
রোববার জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখন পর্যন্ত ২২ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। করদাতা বেড়েছে ২ লাখ। আরো ৫০ হাজার কোম্পানি রিটার্ন দাখিল করবে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে নতুন আড়াই লাখ রিটার্ন দাখিলকারী যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এতকিছু করার পরও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব না আসা দুঃখজনক। তাই এখন থেকে কোন টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেন না তা খতিয়ে দেখা হবে। এতদিন ব্যবসায়ীদের প্রতি নমনীয় ছিল এনবিআর। এখন থেকে ভ্যাট আদায়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে। তবে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা রাজস্ব আহরিত হয়েছে। তারমধ্যে ভ্যাট থেকে এসেছে ৭৮ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা, যা মোট আহরিত রাজস্বের ৩৯ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ভ্যাট আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের ৩৬ ভাগ। বছর শেষে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব।
ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস সম্পর্কে তিনি জানান, এই অর্থবছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ ইএফডি মেশিন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কারণ, এই মেশিন আমদানি করতে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা সময় লাগলেও ঘোষিত সব পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবছরই আমরা ব্যবসায়ীদের প্রচুর সহযোগিতা করে আসছি। বিশ্বের কোনো দেশে কাস্টমস থেকে আহরিত শুল্কের পরিমাণ এত বেশি নয়। বাংলাদেশে মোট রাজস্বের ২৮ শতাংশ আসে কাস্টমস থেকে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেনে। কিন্তু এর পরেও যখন আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তখন আমাদের দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।