রাণীনগরে কলেজ শিক্ষার্থীর ছবি দিয়ে পর্নো তৈরির অভিযোগ

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর রাণীনগরে কলেজ পড়–য়া এক শিক্ষার্থীর স্থির ছবি দিয়ে পর্নো ছবি তৈরি করে ওই শিক্ষার্থীর বাবার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে স্থানীয় স্মৃতি স্টুডিও’র গোবিন্দ নামের এক কর্মচারী। দাবিকৃত টাকা না দিলে মেয়ের নগ্ন ছবি ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় ওই কর্মচারী। বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে এলাকায় জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি মহল।
ওই শিক্ষার্থী তার মোবাইলে তোলা স্থির ছবি প্রিন্ট করার জন্য আবাদ পুকুর বাজারে বিপ্লবের স্মৃতি স্টুডিও’তে যায়। মোবাইল থেকে শিক্ষার্থীর ছবি প্রিন্ট করার সময় ওই স্টুডিও’তে কর্মরত কর্মচারী গোবিন্দ মন্ডল কলেজ শিক্ষার্থীর অজান্তে তার মোবাইল নাম্বার, মোবাইলে থাকা আরো ছবি ও ইমো খোলার নম্বর নিয়ে নেয়। গোবিন্দ একই উপজেলার রায়পুর গ্রামের সুরেন্দ্রনাথের ছেলে। পরে ওই ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি করে গত ৬ মে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীর ইমো নম্বরে প্রেরণ করে গোবিন্দ। তারপর গোবিন্দ ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে মোবাইল করে মেয়ের ইমো খুলে দেখতে বলে।
এরকিছু সময় পর গোবিন্দ আবার ফোন করে ওই রকম আরো অনেক ছবি আছে বলে জানায়। এমন কথা শুনে কলেজ শিক্ষার্থীর বাবা মান-সম্মানের ভয়ে অসহায় বোধ করলে গোবিন্দ তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সব ছবিগুলো ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় গোবিন্দ। বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে এলাকায় জানাজানি হলে গোবিন্দ তার মোবাইল বন্ধ রেখে গাঁ ঢাকা দেয় বলে জানান ওই শিক্ষার্থীর বাবা। এরপর গত সোমবার বিকেলে গোবিন্দর পক্ষ থেকে ঘটনাটি গোপনে মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে এলাকার একটি মহল।
ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের নগ্ন ছবি তৈরি করে গোবিন্দ ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করায় বিষয়টি জানাজানির এক পর্যায় গোবিন্দ গাঁ ঢাকা দিয়ে কালীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছে। কী করবো. এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই নি।
গোবিন্দ মন্ডলের সাক্ষাত না পাওয়ায় ও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও স্মৃতি স্টুডিও’র স্বত্তাধিকারী উপজেলার জলকৈ গ্রামের শ্রী বিপ্লব জানান, মেয়েটির ছবি দিয়ে গোবিন্দ কী করেছে তা আমার জানা নেই। তবে লোকজনের মাধ্যমে শুনেছি সে পর্নোগ্রাফি তৈরি করেছে। গোবিন্দর সঙ্গে বেশ কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু যোগাযোগ করতে পারিনি। সে যদি এটা করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হওয়া দরকার।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ