রাণীনগরে খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগরে খাস জমি দখল করে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল (৫তলা) ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়গাছা বাজার সংলগ্ন সুগানদিঘী নামক স্থানে আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে এই ৫তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারলেও বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলমান আছে।
অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়গাছা গ্রামের মৃত সমসের আলী মোল্লার ছেলে মৃত ভূমিহীন দিনমজুর মনছুর আলী মোল্লাকে বড়গাছা মৌজার ১নম্বর খতিয়ানভুক্ত ১১৯দাগে ৫০শতাংশ সরকারি খাসের জমি (শ্রেণি-মাটিয়াল) ৯৯বছরের জন্য ১৮৮৮-৮৯নম্বর চিরস্থায়ী পত্তন দেওয়া হয়। এই পত্তনকৃত জমিতে মনছুর আলী মোল্লা আইন না মেনে পুকুর খনন করেন।
জানতে পেরে পত্তনকৃত জমিতে পুকুর খনন করা ও বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী পত্তনকৃত জমির লিজ বাতিল করে দেন।
এরপর থেকে মনছুর আলীর স্ত্রী জরিনা বিবি ওরফে হাজারিকা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে সেই সরকারি খাসের জায়গা ভোগদখল করে আসছে। ইতোমধ্যেই পুকুরের চারদিকে থাকা বড় বড় গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন হাজারিকা ও তার সন্তানরা। এছাড়াও স্থানীয় কিছু মাতব্বরদের সহযোগিতায় ওই জমির উপর ৫ তলা ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিনই চলছে ভবনের নির্মাণ কাজ। অথচ স্থানীয়রা বাদি হয়ে ভবন নির্মাণের শুরু দিকে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান ও আদালতে মামলা দায়ের করেন যে মামলাটি বর্তমান চলমান। কিন্তু এই হাজারিকা আইনকে তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়রা জানান জরিনা বিবি (হাজারিকা) মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। তার স্বামীও মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতেন। আর তার ৩ ছেলে ভ্যানগাড়ী চালায়। তাদের পক্ষে কিভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব ও তাদের আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, এই পরিবারের কারো কোনো সম্মানবোধ বলে কিছুই নেই। তাই তারা মানুষকে লাঞ্ছিত করতে দ্বিধা বোধ করে না। তাই সম্মান হারানোর ভয়ে লোকজনরা তাদের কোন কাজে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। হাজারিকাসহ তার সন্তানরা গোপনে দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসীরা জানান। প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি জানালেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী হতাশ।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুন বিবি, আফতাব প্রামাণিকসহ অনেকেই জানান, হাজারিকার পরিবারের দাপটে আমাদের বসবাস করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসায়ী এই পরিবার আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে আসছে। কোন কিছুর প্রতিবাদ করতে গেলেই লাঞ্ছিত করে। এদের অত্যাচারে আমরা পুরো গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সবার অজান্তেই আমাদের সন্তানরা এদের কারণেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা এই সমস্যা থেকে অতিদ্রুত মুক্তি চাই। আমরা বাদি হয়ে ভবন নির্মাণের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আদালতে মামলাও দায়ের করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উল্লেখ্যযোগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই যার করণে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি।
জরিনা বিবি (হাজারিকা) বলেন, আমার কাছে উপযুক্ত কাগজপত্রাদি আছে। তাই আমি ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছি। এর বেশি তিনি কোনো কথা বলতে ও কোনো প্রকারের কাগজপত্রাদি দেখাবেন না বলে জানান।
স্থানীয় বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম (শফু) বলেন, হাজারিকা খুবই ভয়ঙ্কর মহিলা। তার কোনো আত্মসম্মান নেই। তার সঙ্গে কথা বলাও বিপদজনক। সে কখন যে কী করে ফেলে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই পরিবার অবৈধ ভাবে সরকারি জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। আমি একাধিকবার নিষেধ করেছি কিন্তু হাজারিকা আমার কথা শোনেনি। আমি নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি তিনিই এর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) আরিফ মোর্শেদ মিশু বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিষয়টি জটিল আকার ধারন করেছে। কিন্তু মামলা চলমান অবস্থায় হাজারিকা ভবন নির্মাণের কাজ করতে পারেন না। তিনি আইন না মেনে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করলেও আইন মেনে ভবন ভেঙে আমরা আমাদের সরকারি জায়গা উদ্ধার করবো এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি অতিদ্রুত মামলার সর্বশেষ অবস্থা জেনে, আদালতের পরামর্শ সাপেক্ষে ও অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।