রাণীনগরে নিষিদ্ধ সৌঁতি জাল দিয়ে মাছ শিকার কর্তৃপক্ষ নিরব

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


রাণীনগরে স্লুইস গেটে এভাবেই নিষিদ্ধ সৌঁতি জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নের ৩টি স্লুইস গেটে এবং উপজেলার রতনঢালী খালের একাধিক স্থানে অবৈধ ভাবে নিষিদ্ধ সৌঁতি জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলীন হতে চলেছে।
অপরদিকে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার কৃষক। এই সৌঁতি জালের কারণে বন্যা পরবর্তী সময়েও বিল এলাকার মাঠের জলাবদ্ধতা দূর না হওয়ায় আবাদ করতে পারছে না কৃষকরা। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতাদের ছত্র-ছাঁয়ায় অবৈধভাবে নিষিদ্ধ এই জাল দিয়ে মাছ নিধন করা হলেও কর্তৃপক্ষ নিরব।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নটি হচ্ছে খাল ও বিল অধ্যুষিত এলাকা। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দারা মৎস্যজীবী। তারা এই সব মুক্ত খাল-বিল থেকে মাছ আহরন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত মৎস্য অফিসের সঙ্গে আতাত করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তিনটি স্লুইস গেটে অবৈধ ভাবে নিষিদ্ধ সৌঁতি জাল দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এই জাল দিয়ে কোন প্রকারের মাছ বের হতে পারে না। তাই স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মুক্ত জলাশয় থেকে আগের মতো তেমন আর মাছ পায় না। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। স্থানীয়রা অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় এই সাধারণ মৎস্যজীবীরা তাদের কাছে জিম্মি।
২নম্বর স্লইস গেটের সৌঁতি জালের মালিক মেছের চাঁন জানান, এলাকার নেতা, স্থানীয় মানুষ ও মৎস্যজীবীসহ প্রায় ২শ মানুষ এই সৌঁতিজালের অংশীদার। আমি শুধুমাত্র মাছ তোলার মালিক। প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে মৎস্য অফিস থেকে শুরু করে অনেক কর্মকর্তারা এসে উপঢৌকন হিসেবে মাছ নিয়ে যায়। মাঝখান থেকে আমরা কিছু মাছ পাই।
৩নম্বর স্লইস গেটের সৌঁতিজাল পরিচালনাকারী আজিজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় নেতারা এই সৌঁতিজালের মাছ নিয়ে যান। তাই তাদের অনুমতি সাপেক্ষে আমি এই জাল পরিচালনা করে আসছি। প্রতিদিন বিভিন্ন অফিস থেকেও স্যারেরা এসে মাছ নিয়ে যান।
মিরাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সাহার আলী সরকার ও অন্যান্য সদস্যরা জানান, অবৈধভাবে জোর করে এই সব জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় মুক্ত জলাশয় থেকে দিন দিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। মুক্ত জলাশয় থেকে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা কোন মতে টিকে আছি। কোন স্থানে অভিযোগ দিয়ে আমরা লাভ পাই নি। আমরা এসব মানুষের হাতে জিম্মি।
এ বিষয়ে উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান জানান, আমি মাত্র এই উপজেলায় যোগদান করেছি। আমি এই উপজেলা সম্পর্কে এখনও কোন কিছুই ভালো ভাবে জানতে পারি নি। তবে আমি অতিদ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরো বলেন, এছাড়া এই দফতরে জনবলের চরম সঙ্কট থাকায় ইচ্ছে করলেও সব জায়গায় যাওয়া যায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ