রাণীনগরে প্রথম বিনাচাষে রসুন চাষ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর



নওগাঁর রাণীনগরে এই প্রথম বিনা চাষে রসুনের আবাদ শুরু করেছেন আতাইকুলা গ্রামের আবদুল খালেক মৃধার ছেলে মাহফুজুর রহমান রকেট। জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিনাচাষে এই রসুনের আবাদ শুরু করেছেন। তার দেখাদেখি আশেপাশের অনেক কৃষকই এই লাভজনক আবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কৃষক মাহফুজুর রহমান জানান, দেশের অন্য জেলাতে এই বিনাচাষে রসুনের আবাদ খুবই জনপ্রিয় ও লাভজনক। তিনি প্রথম বারেরমতো তার ৩বিঘা জমিতে এই রসুনের আবাদ করেছেন। চাষ সম্পর্কে তিনি জানান, আমন ধান কাটার পর জমি পানি দিয়ে একটু ভিজিয়ে নিয়ে সার ও ফসফেট দেয়ার পর রসুনের ৪ ভাগের ১ ভাগ অংশ কাঁদার মাঝে রেখে খড় দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিতে হবে। এরপর রসুনের গাছ বের হলে পরিচর্যা শুরু করতে হবে স্বাভাবিক রসুন গাছের মতো। লাগানের ৫মাস পর রসুন উত্তোলনের যোগ্য হয়ে যায়। এই পদ্ধতিতে জমি আলাদাভাবে কোন প্রকার চাষ করতে হয় না। প্রতিবিঘা জমিতে ৩০ থেকে ৪০ মণ পর্যন্ত রসুনের ফলন পাওয়া যায়। এতে অল্প পরিশ্রম ও খরচে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব।
কৃষক মাহফুজুর আরো জানান, জেলায় কেউ এই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে রসুনের আবাদ করে না। কিন্তু এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি আবাদ। এবার আমার প্রতি বিঘায় রসুনের ফলন ৩০ থেকে ৪০ মণ হবে বলে আমি আশাবাদী। আমি আশা রাখি আমার দেখাদেখি আরো অনেকেই এই লাভজনক বিনা চাষে রসুনের আবাদ শুরু করবেন।
একই গ্রামের কৃষক রসুল মিয়া জানান, এই প্রথম আমরা বিনাচাষে রসুনের আবাদ দেখলাম। আমরাও আগামীতে এই লাভজনক রসুনের আবাদ শুরু করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সাওয়ার জানান, কৃষক মাহফুজুর লাভজনক ভালো একটি আবাদ শুরু করেছেন। এটি মূলত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিল এলাকার আবাদ। তবে এই আবাদে কম পরিশ্রম ও খরচে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব। ওই কৃষককে কৃষি অফিস এই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ