রাণীনগরে বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়ে লোক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগর বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নের বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে লোক নিয়োগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যান্য বৈধ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ অন্যান্য প্রার্থী ও গ্রামবাসীদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, গত জুলাই মাসে উপজেলার বড়খোল উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ছেলেসহ ওই এলাকার ১০ জন প্রার্থী আবেদন করে। পরবর্তী সময়ে ১ জনকে বাদ দিয়ে বাকি ৯ জনের আবেদনপত্র বৈধ ঘোষণা করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এর পরে কবে পরীক্ষা হবে, কোথায় হবে তা সভাপতির ছেলে ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীরা কেউ জানতো না। সম্প্রতি অন্য প্রার্থীসহ গ্রামের মানুষরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে গত ৬আগস্ট নওগাঁ শহরের কোন এক স্থানে পরীক্ষার মাধ্যমে ওই পদে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ফল প্রদান করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০আগস্ট ওই পদে যোগদান করেন সভাপতির ছেলে। এরপর থেকে গ্রামবাসীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গ্রামবাসীরা জানান কিভাবে এই নিয়োগ প্রদান করা হলো এনিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কোন কিছু বলতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। নিয়মানুসারে সাধারণ ও স্বাভাবিক ভাবেই নিয়োগ পরীক্ষা ওই বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই এই নিয়োগ পরীক্ষা কোথায় হয়েছে তা নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউ জানেন না।
ওই পদে আবেদনকারী রহিদুল ইসলাম বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এবং তার বলে দেওয়া নিয়মের মধ্যেই অনেক কষ্টে দু’জন প্রক্সি প্রার্থীসহ আবেদন করি। একদিন প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনে বলেন যে এই চাকরির জন্য ১০-১৪ লাখ টাকা লাগবে। তুমি যদি দিতে পারো তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ কর তা না হলে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পরবর্তিতে প্রধান শিক্ষক আমাকে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কিত আর কোন কিছুই জানান নি। এখন শুনতে পাচ্ছি ওই পদে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি কিভাবে সম্ভব।
আরেক প্রার্থী আবদুর রশিদ বলেন, আমাদের টাকা নেই তাই আমাদের কোন চাকরিও নেই। বেকারত্বই আমাদের প্রধান সম্বল। আমি কোন প্রক্সি প্রার্থী ছাড়াই আবেদন করেছিলাম। আমার আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে নাকি বৈধ করা হয়েছে তা পরবর্তিতে আমাকে আর কিছুই জানায় নি প্রধান শিক্ষক। এখন লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি যে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই পদে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই নিয়োগ বিষয়ে কোন কিছু জানাতে অপারগ বলে জানান।
দাতা সদস্য ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন প্রামানিক বলেন, আমি এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমাকে প্রধান শিক্ষক কিংবা সভাপতি কিছু জানায়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক সাজেদুল হক বলেন, আমি এই নিয়োগ সম্পর্কিত কোন কিছুই জানি না। ঈদের পর বিদ্যালয় চালু হবার বিদ্যালয়ে এসে জানতে পারি যে ওই পদে সভাপতির ছেলেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ওইদিন (২০আগস্ট) সভাপতির ছেলে বিদ্যালয়ে যোগদান করেছে।
প্রধান শিক্ষক জাকির উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে সভাপতি খুব ভালো বলতে পারবেন। আপনি (সাংবাদিক) দয়া করে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছেফাত উল্লাহ বলেন, আমি এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া কিছুই বলতে পারবো না। আপনারা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে এই বিষয়ে জানতে পারবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জলিল বলেন, আমরা নিয়ম অনুসারে ওই পদে নিয়োগ প্রদান করেছি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোবারুল হোসেন বলেন, আমি এই নিয়োগ সম্পর্কে কোন কিছুই জানি না। আমার কাছে বঞ্চিত প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ