রাণীনগরে রেকর্ড পরিমান জমিতে সরিষার চাষ

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


রাণীনগরের মাঠ জুড়ে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। ধান চাষের একঘেয়েমি আবাদ থেকে বেরিয়ে উপজেলার কৃষকরা বর্তমানে বেশি লাভজনক এই সব মৌসুমী আবাদের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এবার উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উফশী জাতের সরিষা দুই হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। দৃষ্টি জুড়ে সরিয়ার হলুদ গাঁদার চিঠি। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌ মাছিরা। মৌ মৌ শব্দে পুরো মাঠ মুখরিত। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোর ধানের জমিতে আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল এই ফসলের চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা সরিষার উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে উফশী, টলি-৭ ও সম্পদ এই তিন জাতের সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার চাষিরা।
এ বিষয়ে হরিশপুর গ্রামের কৃষক হাসেন সরদার জানান, সম্প্রতি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এছাড়া ধানের মূল্যের দরপতনের কারণে প্রতি বছরই আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প পথ হিসেবে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সরিষা চাষ করছি।
গোনা গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, এ মৌসুমে ধান চাষের উপযুক্ত ১০ বিঘা জমিতে তিনি সরিষার আবাদ করছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই সব জমিতে তিনি বোরো ধান রোপন করবেন। সরিষার ফসল থেকে উর্পাজিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে বলে তিনি দাবি করেন।
পশ্চিম বালুভরা গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এলাকার কৃষকরা আগাম জাতের সরিষা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। এছাড়াও সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারোয়ার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও জানান, এবারে প্রতি বিঘায় সরিষার পরিমাণ ৬মণ হারে ধরা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে সরিষার বিভিন্ন রোগ-বালাই সম্পর্কে কৃষকদের করণীয় ও তা থেকে সরিষার আবাদ রক্ষার কৌশল সম্পর্কে সর্বদা কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ