বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাত দশটার মধ্যে দোকান বন্ধের গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিন

আপডেট: December 7, 2019, 1:33 am

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মাইকে একটি ঘোষণা মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র- মাঝারি সব শ্রেণির ব্যসায়ীদের মধ্যে বিস্ময় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় ওই ঘোষণায়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
হঠাৎ কী এমন ঘটলো যে, রাত ১০ টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে। তাও আবার মেট্রোপলিটান পুলিশের বরাত দিয়ে ওই মাইকিং করা হচ্ছিল। যদিও মেট্রোপলিটান পুলিশ খুবই দ্রুততার সাথে- ওই ঘোষণার এক ঘণ্টা পরেই পাল্টা মাইকিং করে জানান দেয় যে, নগর পুলিশের পক্ষে ওই ধরনের কোনো ঘোষণা দেয়া হয় নি বা রাত ১০টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে এমন কোনো নির্দেশনাও তাদের কাছে নেই।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নগর পুলিশের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুধুমাত্র নগরীর উপশহর দড়িখরবোনায় কে বা কারা মাইকিং করে রাত ১০টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলো। পরে আরএমপির পক্ষ থেকে রাত ১০টার মধ্যে দোকান বন্ধের যে কোনো নির্দেশনা নেই তা মাইকিং করে জানানো হয়। নগরীর আর কোথাও এরকম মাইকিং করা হয়নি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণাও নেই। অর্থাৎ নগর পুলিশের পূর্বের ঘোষণা ছিল সম্পূর্ণরূপে গুজব!
তা হলে এই গুজব ছড়ালো কারা? গুজব ছড়িয়ে তারা কী স্বার্থ হাসিল করতে চায়? গেল মাসে ‘লবণের সঙ্কট’-এর গুজব ছড়িয়ে সারা দেশে এক তেলেসমাতি ঘটনার জন্ম দেয়া হয়েছিল। সেই গুজবও সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামাল দিয়েছে। কিন্তু ওই গুজব কে বা কারা ছড়িয়ে ছিল সেই কুশীলবদের খুঁজে বের করার কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি। ওই ঘটনার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় রাত ১০ টার দোকানপাট বন্ধ রাথখতে হবে মর্মে রীতিমত মাইকিং করে গুজব ছড়ানো হলো। এই গুজব রটনাকারীদের কি খুঁজে বের করা হবে- না, এটাও রহস্য হয়ে থেকে যাবে?
এ ধরনের গুজব রটনা স্বভবত ব্যক্তি স্বার্থে হয় না। এর সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেননা এই রটনার মধ্যে জনমানুষে এক ধরনের আতঙ্ক- উদ্বেগ সৃষ্টির আলামত বিদ্যমান।
বৃহস্পতিবার যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের গুজব রটনার উপকরণ খুবই দৃশ্যমান ছিল। প্রথমতঃ এই গুজব ছড়াতে অন্তত একজনের প্রয়োজন হয়েছে, মাইক ভাড়া নিতে হয়েছে এবং এটি করার জন্য যানবাহনও ব্যবহার করতে হয়েছে। অতএব এই গুজব রটনাকারীকে বা রটনাকারীদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে না। আমরা প্রত্যাশা রাখি, ওই গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ