রাধার স্বপ্ন এখনো জেগে

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৯, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

তাসনিয়া তারান্নুম


রাধাদাস লক্ষ¥ী (৫৫)। দইয়ের ডুঙ্গি নিয়ে সাহেববাজারে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। ক্লান্ত শরীর, শান্তির আস্বাদন চায়- তবুও অভাবের ঘানি টানতেই হয়। প্রত্যাশা তবু বেঁচে থাকে সন্তানের মাঝে।
রাধার বাবা বিটু দাস, মা আশালতা। তারা সাত ভাইবোন। অভাবের সংসারে লেখাপড়া হয়নি, প্রথম শ্রেণি পর্যন্তই। ১৪ বছর বয়সে সুকুমার দাসের সাথে বিয়ে হয়। পাঁচ মেয়ে- পপি, রুতবা, পলি, সনিকা, স্মৃতি ও এক ছেলে নন্দনকে নিয়েই রাধার জীবন সংগ্রাম। স্বামী সুকুমার টক দই বিক্রির পাশাপাশি পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। দই বানানোর জন্য দুধ জ্বাল দেয়া, দই বসানো তারা দুজনে মিলেই করতেন। দই বানানো এবং সংরক্ষণের জন্য সাহেববাজারে ২০০০ টাকা ভাড়ায় একটি কারখানা নেন। কারখানা মানে ছোট ছোট অনেক রুম। সেখানে বিভিন্ন কেক, বি¯ু‹ট তৈরি এবং রাখার জন্য অনেকেই ভাড়া নেন।
সুকুমারের পৈত্রিক বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে থাকলেও ব্যবসার জন্য তিনি রাজশাহীতে এসেছিলেন। বড়কুঠিতে ২০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাসায় থাকতেন। এই ব্যবসা করে শালবাগানে এক খ- জমিও কিনেছিলেন। কিন্তু মেয়ের বিবাহ দেয়ার সময় সেটিও বিক্রি করতে হয়।
সুকুমার নিরক্ষর ছিলেন কিন্তু ছেলে মেয়েদের যতদূর পেরেছেন পড়িয়েছেন। যেন তাদের মত এত কষ্ট না করতে হয়। রাধা জানান, মেয়েদের দশম শ্রেণি আর ছেলেটি পড়তে চায়নি, পঞ্চম শ্রেণির পর পড়ালেখা ছেড়েছে। চার মেয়ে ও ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে পানের ব্যবসা করেন ।
২০১৮ সালে স্বামী সুকুমার স্ট্রোক করে মারা যান। রাধা জানান, স্বামী প্রেসারের রোগি ছিলেন। তারপর থেকেই ব্যবসাটা তাকেই সামাল গিতে হয়। কারখনায় দই একাই বানান। দইয়ের ভার এবং দুধ দেয়ার জন্য লোক রেখেছেন। তিনি সকাল ৬ টায় দোকানে আসেন, রাত ৮টা পর্যন্ত থাকেন। এর মধ্যে শুধু ৩ টায় দুপুরের খাবার খেতে বাসায় যান।
রাধা জানান, ঈদ, পূজা, বিয়ে বা জন্মদিন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বেশি দই বিক্রি হয়। এছাড়াও বুধ, বৃহস্পতি এবং শুক্রবারে টক দই বিক্রি হয়ে থাকে।
কতদিন এই পেশাটি করবেন জানতে চাইলে রাধা বলেন, ‘ছোট মেয়ে স্মৃতির লেখাপড়া, বাড়িভাড়া, কারখানা ভাড়া, সংসারের যাবতীয় খরচ টানার ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে। যতদিন শরীর চলে। অসম্ভব হয়ে পড়লে ছেলে নন্দনকে ব্যবসা ছেড়ে দিবো।’
ছোট মেয়েকে নিয়ে রাধা স্বপ্ন দেখে। অভাবের ঘুর্ণিপাকেও জীবন লক্ষ্য তৈরি করে। সে লক্ষ্য মেয়েটা অনেক বড় হোক। তিনি বলেন, ‘আমার যত কষ্টই হোক, মেয়েকে পড়াব।’ মেয়েটি ভোলানাথ স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ