রাবিতে একই দিনে ৪ ইউনিটে সাক্ষাৎকার, বিপাকে ভর্তিচ্ছুরা

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ¯্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় চারটি ইউনিটের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকার ও লিখিত পরীক্ষা একই দিনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি ওই চারটি ইউনিটের সাক্ষাৎকার আজ মঙ্গলবার প্রায় একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। অথচ মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া অনেক ভর্তিচ্ছু একাধিক ইউনিটে চান্স পেয়েছেন। ওই ভর্তিচ্ছুরা কীভাবে একই দিনে ও একই সময়ে একাধিক ইউনিটের সাক্ষাৎকারে অংশ নিবেন বা আদৌ অংশ নিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিট, কৃষি অনুষদভুক্ত ‘জি’ ইউনিট, চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘আই’ ইউনিটের সাক্ষাতকার ১৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কলা অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় (এমসিকিউ) ইংরেজি বিভাগের জন্য মনোনীত ভর্তিচ্ছুদের সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুষদগুলোর ভর্তি কমিটির সমন্বয়হীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্ব স্ব অনুষদের ডিন ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়করা বলছেন- একাধিক ইউনিটে চান্স পেয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা সিরিয়াল মিস করলেও পরে তাকে সুযোগ দেয়া হবে। তবে সিরিয়াল মিস হয়ে গেলে প্রথম দিকের পছন্দের বিভাগ পাওয়া যাবে কিনা-তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা।
কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তারা একাধিক ইউনিটে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। একই দিনে প্রায় একই সময়ে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করায় তাদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চারটি ইউনিটের ভর্তি কমিটির খামখেয়ালিপনায় তারা শঙ্কিত বলে উল্লেখ করেন।
খুলনার থেকে আগত ভর্তিচ্ছু জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে ইংরেজি ও আইন বিভাগে প্রায় একই সময়ে লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। ফলে কোন ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিব, তা নিয়ে চরম সংশয়ে পড়েছি। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা হলে সিদ্ধান্ত নিতে খুব ভাল হতো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন অনুষদের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, ‘অন্য তিনটি অনুষদের আগে আমরা ফল প্রকাশ ও সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। এতে আমাদের কোনো দায় নেই। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের নাম রোলসহ সব তথ্য নিয়ে রেখেছি। পরে আসলেও তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে।’
চারুকলা অনুষদের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অন্য অনুষদের সঙ্গে কথা বলে এটা নির্ধারণ না করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যায় পড়লে, তার সিরিয়াল মিস হয়ে গেলেও তাকে সুযোগ দেয়া হবে।’
কৃষি অনুষদের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইংরেজির জন্য মনোনীত কিছু শিক্ষার্থী আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে, তাদেরকে বিকেল ৫টার পর পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেছি।’
জানতে চাইলে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘এটা আমার জানা ছিল না। ওই চারটি ইউনিটের ভর্তি কমিটির সঙ্গে আমি কথা বলবো। কেউ যাতে বাদ না পড়ে কিংবা সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কারণে ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।’