রাবিতে চার সাংসদকে সংবর্ধনা

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


রাবিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংসদ, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষাথীবৃন্দ-সোনার দেশ

রাজশাহী-2 আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনেক দলের ছাত্র নেতা আছেন। তবে যে দলের নেতা হোন না কেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আদর্শ বোধ, তাঁর চেতনা যদি আমরা না ধারণ করি তাহলে আমরা বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারবো না। বাংলাদেশও টিকে থাকবে না। তাই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। গতকাল শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হলের উদ্যোগে সাবেক চার শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. আমিনুল ইসলাম তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এসময় সংবর্ধক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান।
সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হলেন, রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ও রাকসুর সাবেক ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ ও রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দিন এবং ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চল। এছাড়াও ওই হলের সাবেক শিক্ষার্থী দিনাজপুর-৫ আসনের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারনে তিনি উপস্থিত হতে পারেন নি।
ফজলে হোসেন বাদশা মুক্তিযোদ্ধ কোটা সম্পর্কে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সবাইকে ধারণ করতে হবে। আজ অনেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে কথা বলেন। তবে আমি মনে করি মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখা উচিত। এটা না থাকার কোনো অবকাশ নেই।’
সাংসদ শফিকুল আজম খান চঞ্চল স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যখন আমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তখন আমার রুমে ঘুমাতে পারিনি। সব সময় আমার রুমে শিক্ষার্থীরা থাকতো। সে সময় বেশির ভাগ রাত বন্ধুদের রুমেই কাটাতাম। আমরা যখন হলে ছিলাম তখন হলের খাবার ছিল দিনে ৬ টাকা, রাতেও ৬ টাকা ছিলো এবং সকালে ছিলো আড়াই টাকা। মাসে ছয় শ টাকা দিতো বাড়ি থেকে। তখন আমাদের জামা কাপড় তেমন বেশি ছিলো না। দুই তিনটা জামা দিয়ে বছর পার করে দিতাম। আর এখন শিক্ষার্থীরা কত আনন্দের সাথে পড়াশোনা করে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় এখন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া এগিয়ে যাচ্ছে। এখন আর কারও পড়া শোনা টাকার অভাবে থমকে নেই।
ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার অন্যতম একটি কারণ ছিলো রাজনীতি করা। তবে রাজনীতি করতে এসে কখনো আনন্দ আসে আবার দুর্বসহ জীবনও পার করতে হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে শোষনের শিকার হতে হয়েছে। তারপরও দমে যায়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘মিথ্যা রাজনীতি বেশি দিন টিকে না। যারা দলের অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না তাদের রাজনীতিও টিকে না।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় আমীর হলের প্রাধ্যাক্ষ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবর্ধক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়া, তমালতলা কারিগরি ও ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পরিমল কুমার কুন্ডু, নওগাঁ অ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরদার সালাহউদ্দিন মিন্টু, চতরা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ উত্তম কুমার সাহা, মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ রেজিস্ট্রার এ এন এম মুনীর হোসাইন মোল্লা প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ