রাবিতে দুই দিনব্যাপী আনর্ত নাট্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই দিনব্যাপী আনর্ত নাট্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠি হয়েছে। থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘আনর্ত’ এ নাট্যমেলার আয়োজন করে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আনর্তবাড়িতে ‘থিয়েটারের মানুষে-মানুষে’ অনুষ্ঠানে থিয়েটার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সৌহার্দ্য বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১২টায় ‘মঞ্চ-অভিজ্ঞতা পর্দায় : সহায় নাকি অন্তরায়’ শিরোনামে দ্বিতীয় আনর্তবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আসাদ সরকার ও সুমনা সরকারের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, লাকী ইনাম, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, রহমত আলী ও সালাউদ্দিন লাভলু।
বিকেল চারটায় আনর্তমঞ্চে ‘থিয়েটার করিয়া কী হইবে- যদি কিছু হয়, তবে চাই স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়’ শীর্ষক আনর্তবৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালনা করেন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক আরিফ হায়দার। এ সময় আলোচনা মঞ্চে ছিলেন মামুনুর রশীদ, মাসুম রেজা, অনন্ত হীরা, প্রশান্ত হালদার, মিলন কান্তি দে প্রমুখ।
আলোচনায় মামুনুর রশীদ বলেন, ‘শুরুতে কেবল একটি পর্দা ছিল, টিভির পর্দা। এখন মোবাইল ফোনের পর্দাসহ আরও অনেক ধরনের পর্দা এসেছে। একটা হচ্ছে ইমেজ মাধ্যম, আরেকটা জীবন্ত মাধ্যম। থিয়েটার কি বাস ভাড়া, রেলের ভাড়া কমাতে পারে? পারে না, কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা দীর্ঘদিনের অন্যায়-অশান্তিগুলো প্রকাশ করতে পারি। তবে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাস মিডিয়াকেও গ্রহণ করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না, মিডিয়াতে অভিনয় করা অপরাধ। একজন থিয়েটার শিল্পীর তো অন্য কোনো পেশা নেই। তাহলে সে কি আকাশের নীল আর বাতাস খেয়ে বেঁচে থাকবে? “বিনোদনকর্মী” শব্দটি পত্রিকার আবিষ্কার।’
মাসুম রেজা বলেন, ‘থিয়েটার হলো ক্লাসিক্যাল মিউজিকের মতো। খুব কম মানুষ শোনে, শোনার জন্য ন্যূনতম জানাশোনা থাকা লাগে। আমাদের থিয়েটারের সর্বনাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম, শিক্ষাব্যবস্থা। টিভি ডিরেক্টররা না। এখন থিয়েটারে শিক্ষার্থীদের পাওয়া যায় না। তারা ক্লাস টেস্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকে।’
নাট্যজন ইসরাফিল শাহীন বলেন, ‘এখানে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম, শিক্ষাব্যবস্থার কথা বারবার বলছেন। সরকারযন্ত্র নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। কিন্তু সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে সরকারযন্ত্রের মধ্যে পড়ে। ভোট কীভাবে হয়, কোন প্রক্রিয়ায় হয় তা ভাবতে হবে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে রহমান রাজু বলেন, ‘হয়ত আনর্ত থাকবে না, পৃথক মন্ত্রণালয় হবে না। তবে মনের কথাগুলো বলতে পারলে হালকা হওয়া যায়, ক্ষোভ কমে যায়।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মলয় ভৌমিক, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, সালাউদ্দীন লাভলু, মাসুম রেজা প্রমুখ ।
সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মেহেদী তানজিরের নির্দেশনায় ‘বেহুলা, আমি এবং সতীত্ব’ নাটক মঞ্চায়িত হয়। পরিবেশন করে ঢাকার নাট্যদল ‘মহড়া’। পরে আনর্তমঞ্চে নওগাঁর সাইদুল ও তাঁর দলের কিচ্ছানাট্য ‘বেলাবতী কইন্যা’ পরিবেশনের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী নাট্যমেলার সমাপনী হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বেলা ১২টায় ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে ভিন্নধর্মী আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ