রাবিতে ভর্তি নিয়ে প্রতারণার জাল || এদের রুখবে কে?

আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

দেশের শিক্ষায় অন্যতম একটি দুর্বলতার দিক হলো সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতচক্রের বাড়বাড়ন্ত। এই জালিয়াতরা নানা যোগসাজসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতারণামূলক নানা কর্মকা-ে লিপ্ত হয়। এটা একটা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা। কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগটা তত সবল নয়Ñ ফলে জালিয়াতচক্রের দৌরাত্ম্য বরং সীমা লঙ্ঘন করেই চলেছে।
দৈনিক সোনার দেশে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জালিয়াত চক্রের একটি তৎপরতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার কথা বলে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে লক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। ভর্তিচ্ছুদের মোবাইল নাম্বার কীভাবে এ চক্রের হাতে গেল তা অনুসন্ধানে ‘টেকটিউনস’ নামের একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কের নাম উঠে এসেছে। ভর্তিচ্ছুদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র সক্রিয় আছে।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকদিন আগে এই নাম্বার (০৩৫৯০৭৭৭৮৮৮) থেকে ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকের ফোনে একটি এসএমএস আসে। ইংরেজিতে লেখা ওই এসএমএসে উল্লেখ করা হয়, ‘যদি আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পান অথবা ভর্তি পরীক্ষায় আপনার মেধাক্রম দূরে হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত যে কোন সাহায্যের জন্য আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে ‘০১৮৬০৩৬৪৬৩৯’- এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন।’
ভর্তিচ্ছুরা আরো জানান, এসএমএসে উল্লেখকৃত ওই নাম্বারে (০১৮৬০৩৬৪৬৩৯) যোগাযোগ করলে এক যুবক ফোন রিসিভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার ‘শতভাগ নিশ্চয়তা’ দিয়ে ভর্তিচ্ছুদের কাছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন ওই যুবক। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে এবং বাকি টাকা ভর্তি হওয়ার পর দিতে হবে বলে জানায় সে।
এই প্রতারণার শিকার হয়েছে কেউ এখন পর্যন্ত তা জানান যায় নি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। যারা এ ধরনের প্রতারণা করছে, তারা কি অস্তিত্বহীন কোনো কিছু? যদি অস্তিত্ববান হয় তা হলে তারা ধরাছোয়ার বাইরে থাকে কী করে? প্রতারকচক্র তো মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করছেইÑ কিন্তু ওই নম্বরের রেজিস্ট্রেশনের সূত্র ধরে তাদের ধরা যাচ্ছে না কেন? তা হলে এতো ঘটা করে মোবাইল ফোন সিমের রেজিস্ট্রেশন করে কী লাভ হলো? তাছাড়া ওই প্রতারক চক্রের হোতারা ফোনে কথাও বলছেÑ সেটাও তো এক ধরনের এভিডেন্স হতে পারে।
মোবাইল ফোনের নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা এটাই প্রথম সয়Ñ নানাভাবে তারা ফোন দিয়েই প্রতারণা করছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয় কিন্তু প্রতারকচক্র ধরা ছোয়ার বাইরেই খেকে যায়। তা হলে এর প্রতিকার কী?
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থার দায়িত্বের সাথে রাবি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও কম নয়। বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সার্থকভাবে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম সমাপ্ত করে ফলাফল দিতে শুরু করেছেনÑ এরই মধ্যেই শুরু হয়েছে ওই প্রতারক চক্রের তৎপরতা। এরসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সামান্য হলেও জড়িত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই প্রতারকচক্র লুকিয়ে থেকে কিংবা তাদের সহায়তায় বাইরে কেউ প্রতারণার জাল বিছিয়েছে কিনা সেটা তাদেরও খতিয়ে দেখা দরকার। পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন, পুলিশকে সহযোগিতা করতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ