রাবির চারুকলার প্রশ্নপত্রে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ || দুই শিক্ষককে পরীক্ষার কার্যক্রমে ১০ বছর বহিষ্কার || শিক্ষককে মারধরে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জিল্লুর রহমান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলায় ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ‘সাম্প্রদায়িক’ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করার দায়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চারুকলার অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমানকে আগামী ১০ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষক জিল্লুর রহমানের ‘সহযোগী অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি হওয়ার সময় এলে সে সময় থেকে আরো ৫ বছর পরে তিনি পদোন্নতি পাবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আখতার ফারুক ও কেবিএম মাহবুবুর রহমান জানান, গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কী?’ এবং ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মায়েনমারের (মিয়ানমার) সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?’ -এমন দুইটি প্রশ্ন রাখা হয়। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে ওই কমিটি সুপারিশসহ সিন্ডিকেটে বিষয়টি উত্থাপন করে। তার ওপর ভিত্তি করে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। আইনগত বাধা না থাকলে অধিকর্তা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। আর চারুকলার প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটির অন্য সদস্যদের সতর্কমূলক চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
তারা আরো জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্টার্নশিপ পেপারে স্বাক্ষর করানো নিয়ে ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক হাছানাত আলীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত আবুু নাহিদ মোহাম্মদ হায়দার নামের এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। আবু নাহিদ আইবিএ’র এমবিএ (দিবা) ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে অধ্যাপক হাছানাত আলীকেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সদব্যবহার ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ