রাবি’র ৪০ বিভাগে নেই পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম

আপডেট: মার্চ ৪, ২০১৯, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন ও গবেষণা কার্যক্রমের মূল চালিকা শক্তি বলা হয় পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামকে (পাঠ্যক্রম)। অথচ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চশিক্ষার বাতিঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫৯টি বিভাগের মধ্যে ৪০টি বিভাগেই পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম ছাড়াই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ১৯টি বিভাগ পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম থাকলেও বাকি ৪০টি বিভাগে আংশিক কারিকুলামের ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ফলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমার পাশাপাশি শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সিনিয়র অধ্যাপকরা।
তাঁদের মতে, দেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলামবিহীন পাঠদান হতাশাজনক। পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোন কোর্স কতটুকু পড়বে, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পাঠদান কৌশল, মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে জানতে পারে। যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক উপায়ে পাঠদানে পরিপূর্ণ কারিকুলাম প্রণয়নের বিকল্প নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে কারিকুলাম প্রণয়নে কাজ করছে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। সংস্থাটির মতে, যা পড়ানো হয় তার ব্যবহারিক কোনো দিক আছে কিনা- সেটা পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামে দেখানো হয়। কারিকুলামে দু’টো ধাপে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়। একটি বিভাগের, অন্যটি নির্দিষ্ট কোর্সের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যাকাডেমিক শিক্ষাকে প্রয়োগের দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হয়। আর সিলেবাসে দেখানো হয় শিক্ষার্থীদের কী পাঠদান করা হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম অনুসরণ না করে বিভাগসমূহে তৈরি করা সিলেবাস অনুসরণ করেই চালছে শিক্ষাদান কার্যক্রম।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক আবু বকর ইসমাইল বলেন, ‘কারিকুলামবিহীন পাঠদানে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করা সম্ভব নয়। ‘কারিকুলাম প্রণয়নে আইকিউএসি এ পর্যন্ত ৮০টির অধিক সেমিনার করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯টি বিভাগ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কারিকুলাম প্রণয়ন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর সাথে বৈশ্বিক সামঞ্জস্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এখন যে কারিকুলাম রয়েছে, বিশ্বব্যাপী জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষের আলোকে সেটা সেকেলে। তাই যুগের সাথে তাল মেলাতে ও শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষাদানে এতে পরিবর্তন প্রয়োজন।’
রাবির ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে কারিকুলাম থাকা বাঞ্ছনীয়। কারিকুলাম ও সিলেবাসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারিকুলাম হলো মোটাদাগে কী পড়ানো হবে- তার বিস্তাড়িত বর্ণনা। আর এটার মধ্যে কতটুকু পড়ানো হবে- সেটাই সিলোবাস। পঠন-পাঠনে একটি কোর্স নির্ধারণ করার কারণ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে কারিকুলামে। কারিকুলামের ভিত্তিতেই সিলেবাস প্রণয়ন করা হয় বলেন অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান বলেন, ‘যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক উপায়ে পাঠদানে কারিকুলামের বিকল্প নেই। এ নিয়ে আইকিউএসি কাজ করছে। বেশ কয়েকটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের প্রক্রিয়া চলমান। তিনি আরো বলেন, তবে এ ব্যাপারে শিক্ষকদের কিছুটা অনীহাও রয়েছে। শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিভাগগুলোতে অবশ্যই কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ