রাবি ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠান জামায়াত-শিবিরের উত্থান ঘটিয়েছে জিয়াউর রহমান : মেয়র লিটন

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

রাবি সংবাদদাতা


রাবি ছাত্রলীগ আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল তুলে দেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলা সৃষ্টি করেছেন। তখন যারা এটা মেনে নেয় নি। তারাই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে আসে। জামায়াতের প্রয়াত আমীর গোলাম আজমকে মায়ের সঙ্গে দেখা করানো নাম করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে নিয়ে এসে নাগরিকত্ব দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন তার স্ত্রীর (খালেদা জিয়ার) হাতে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে রাবি ছাত্রলীগের উদ্যোগে (২০১৮-১৯) চলতি শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু তাই-ই নয়, জামায়াত-শিবিরের যেই নারকীয় উত্থান সেটাকে আমি দানবের উত্থান বলবো। সেই বিষবৃক্ষের উত্থান বাংলাদেশে ঘটিয়েছে জিয়াউর রহমান। স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার নামটি ব্যবহার করেছিলেন কারণ তিনি একটা ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার কার্যক্রম রাজাকার-আলবদরের চেয়েও ঘৃণিত ও জঘন্য হওয়ার কারণে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা স্বীকার করি না ও বলিও না। জাতিও তাকে কোনদিন স্বীকৃতি দেবে না।’
নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের বাবা-মা উচ্চ শিক্ষাগ্রহণের যে উদ্দেশে পাঠিয়েছে, সেটা ভালোভাবে করবে, সৎপথে থাকবে। তোমাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যরা আছেন, সেটা তারা দেখবেন। আমি নগরপিতা হিসেবে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করবো। শিক্ষার্থীদের যেকোন প্রয়োজনে পাশে আছি।
মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঈদের নামাজের পরে আমাদের ঢাকার বাড়িতে বাবা শহীদ কামারুজ্জামানের কাছে এসেছিলেন। আমরা দুই ভাই তখন বাড়ির সামনে সাইকেল নিয়ে খেলা করছিলাম। বঙ্গবন্ধু গাড়ি থেকে নেমে বাবার নাম ধরে ডাকলেন, বাবা দ্রুত উপর থেকে সিড়ি বেঁয়ে নিচে নেমে আসলেন। তাঁরা ঈদের কোলাকুলি করলেন। এরপর বঙ্গবন্ধু আমাদের দুই ভাইকে দেখে আমাদের বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন। আজো বঙ্গবন্ধুর সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে আছি। আমি মনে করি আর যতদিন বেঁচে আছি, আরো একটু আপগ্রেড হয়ে বঙ্গবন্ধুর সাচ্চা সৈনিক হয়ে যদি মারা যেতে পারি, তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে।
মেয়র লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করছেন। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতেও পাবে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা এই দেশটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের যে জায়গা নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত রাজশাহীকে আরো উন্নত করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুই বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস।’ ছাত্রলীগ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার আগেই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বিশ্বাবিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, ‘তোমরা কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছো। ভর্তি হয়েছো ভালো মানুষ হবে বলে। তবে শুধু বিদ্যা অর্জন করলে বিদ্যান হওয়া যায় না। বিদ্যা অর্জন করে সনদ দেখাতে পারে কিন্তু কেউ শিক্ষিত হওয়ার সনদ দেখাতে পারবে না। তাই তোমাদেরকে প্রকৃত শিক্ষিত হতে হবে।’মনে পড়ে যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কথা,‘দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না, সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।’ সোনার খাঁচার দিনগুলি এভাবেই শেষ ফুরিয়ে যায়। আমরা চলে যাচ্ছি, এই জায়গায় তোমরা আসবে। তোমাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশ। তোমরা আগামীর ভবিষ্যত ও জাতির বিবেক।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরসলভাবে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। নারী-পুরুষ উভয় মিলে কাজ করলে যে দ্রুতই উন্নয়ন হয়, তা প্রমান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আমরা রাজশাহীর যত উন্নয়ন দেখছি, তা সব করেছেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই কারণ অশান্তি চিন্তা করা মানুষের কাজ না। আমরা প্রগতি চাই, আমরা উন্নয়ন চাই। আমরা প্রগ্রেসিভ, আমরা চিন্তা-চেতনায়, ভাবনায়, সব জায়গায়, বঙ্গবন্ধুর যে বিশাল হৃদয় তা ধারণ করবো। তাঁর কন্যার যে বিশাল হৃদয়, তা ধরণ করবো। তাঁর ভালোবাসা যে আকাশের মতো বিশাল সেই ভালোবাসা দিয়ে দুনিয়ার সব মানুষকে ভালোবাসবো।’
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ নগর সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্না বলেন, আমরা যারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছি, তাদের দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা এবং জানানো। যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেউ বিকৃত করতে না পারে। কারণ আজকের তরুণার আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবে। তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুণুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর ড. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ প্রশাসক প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র উপদেষ্টা লায়লা আরজুমান বানুসহ শাখা ছাত্রলীগের সদস্যবৃন্দ ও নবীন শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এরপর তাদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভুতি বক্ত করেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগের নাদিম হোসেন নিলয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরর্ ফাতেমা-তুজ জোহরা, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রাশেদুল ইসলাম ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নূরজাহান খাতুন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান এ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ