রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ || ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, গ্রেফতার ১, পলাতক ২

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রছাত্রীরা-সোনার দেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মাথায় জখম ও হাতের দুই জায়গা ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্রলীগের দুইকর্মী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিষ্কারসহ ৩ দফা দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন নিজে বাদী হয়ে ৩ জনের নামে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আকিমুল ইসলাম রিফাত গ্রেফতার হলেও মামলার অপর দুই আসামী বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির নাহিদ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ লাক এখনও পলাতক রয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ জানান।
দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালনের পর শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেয়ার শর্তে বিকেল সাড়ে ৩টায় আন্দোলন স্থগিত করে তারা। এসময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি কার্যকর না করলে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে অবরোধের ফলে রাস্তার দুধারে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রীকে পায়ে হেঁটে শহরের দিকে যেতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা, সোহরাবের সকল চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করবে, জোহা হল প্রাধ্যক্ষকে পদত্যাগ করা।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের মারমুখি আচরণ যেন বেড়েই চলেছে। তুচ্ছ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের এর আগেও ছাত্রলীগ মারধর করেছে। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো বিচার আমরা পাইনি। ছাত্রলীগও এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিচারের নামে বহিষ্কারের নাটক করে ছাত্রলীগ। কাউকে বহিষ্কার করলেও কিছুদিন পর আবার তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিশ্চুপ ভূমিকায়। তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও বরাবরের মত ‘দেখছি দেখছি’ বলেই দায় এড়িয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, আবরার হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আমাদের সহপাঠীকে হলে ডেকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেফতার চাই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি আদায় না হলে আমরা লাগাতার ধর্মঘট করব।
ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র-উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পরে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এসে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে উপাচার্য আব্দুস সোবহানের সাথে আলোচনা করে বিকেল ৩ টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় ফাইন্যান্স বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি অধ্যাপক আবু সাদেক মো. কামরুজ্জামান ‘উপাচার্য তোমাদের সকল দাবি মেনে নিয়েছেন’ ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে।
তবে মারধরের ঘটনার পরপরই ফোন বন্ধ রেখে ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন এই দুই ছাত্রলীগ কর্মী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ২৫৮ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী আসিফের রুম ও ২৩২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী হুমায়ূন কবির নাহিদের রুম তালাবদ্ধ রয়েছে। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহরাবকে মারধরের পরপরই তারা হল থেকে বের হয়ে গিয়েছে। আর হলে আসেনি।
এ ঘটনায় জোহা হল প্রশাসন চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিবে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় রাবি শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত ১২টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ সামসুজ্জোহা হলের ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে ল্যাপটপ চুরির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৫৪ নাম্বার রুমে ডেকে আনেন ছাত্রলীগের দুই কর্মী। তারা হলেন, বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির নাহিদ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ লাক। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা দুজন মিলে সোহরাবকে রড দিয়ে মাথা ও হাতে এলোপাথারি পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সোহরাব রক্তাক্ত হলে তারা মারধর বন্ধ করে। পরে সোহরাবের বন্ধুরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ও পরে রামেকে ভর্তি করা হয়। তার মাথার তিন জায়গায় মোট ১৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ