রামেক ছাত্রীনিবাসে বহিরাগত!

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) পলিন ছাত্রীনিবাসে এক বহিরাগত পুরুষ প্রবেশ করার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। এনিয়ে হোস্টেলের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় হোস্টেলে প্রবেশকারীর নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মিঞাপাড়া এলাকার আবদুল হামিদ (৬০ ) নামের এক ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আর কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে অবহেলার কারণে নিরাপত্তাকর্মী হাসিবুল হাসানকে বরখাস্ত করেছে।
জানা গেছে, শনিবার ( ২৫ মে) ভোর রাতে সেহেরি খাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়েন। এমন সময় নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে অবহেলার সুযোগে এক লোক ছাত্রীনিবাসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। টের পেয়ে মেয়েরা চিৎকার শুরু করেন। পরে মেয়েরা তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে লোকটিকে কক্ষের ভেতরে আটকে দেন। পরে ব্লকের অন্য মেয়েরা গিয়ে লোকটিকে ধরে ফেলেন। এমনকি নিচের কলাপসিবল গেটও বন্ধ করে দেন। পরে ছাত্রীনিবাসের তত্ত্বাবধায়ককে খবর দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ছাত্রীরা। নিরাপত্তাকর্মীর অবহেলার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তাকর্মী হাসিবুল হাসানের দাবি, আমি যখন বাথরুমে ছিলাম। তখন সে সুযোগে ওই লোকটি হোস্টেলের ভিতরে প্রবেশ করে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী বলেন, এ ঘটনার পর পলিন ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীরা এসেছিলেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রীনিবাস পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, যে লোকটি ছাত্রীনিবাসে প্রবেশ করেছিলেন। সে আসলে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তার পরিবারের লোকজন তাকে তিন দিন ধরে খুঁজছিলেন। তারা মানসিক হাসপাতালে ভর্তির কাগজপত্র নিয়ে এসেছিলেন। তাকে তিনবার সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল।
ওসি হাফিজুর রহমান আরও জানান, শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। কারণ সে মানসিক রোগি। থানা হাজতের ভিতরে কখনও সে সুস্থ আচারণ করছে। আবার কখনও সে পাগলামির আচারণ করছে। তাকে নিয়ে ভেবেচিন্তা কাজ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ