রাশিয়া থেকে ২ লাখ টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্যায় ক্ষতি এবং খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হওয়ায় সরকার খাদ্য আমদানি করছে। এরই অংশ হিসেবে এবার রাশিয়া থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করছে সরকার। এই পরিমাণ গম আমদানি করতে খরচ পড়বে ৪১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) পদ্ধতিতে এই গম আমদানি করা হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতি মেট্রিক টনে ২৫২ মার্কিন ডলার হিসাবে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানিতে সরকারের খরচ হবে ৪১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ গম জি-টু-জি পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাশিয়া থেকে গম আমদানির প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে তা অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার কারণে ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সরকারের ধান, চাল ও গম সংগ্রহ ব্যর্থ হয়। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণসহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণে খাদ্য ঘাটতি বেড়ে যায়।
এ বাস্তবতায় খাদ্য ঘাটতি মেটাতে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন চাল এবং পাঁচ লাখ টন গম।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে থাকে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দরপত্র/কোটেশনের পাশাপাশি জি-টু-জি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। জি-টু-জি পদ্ধতিতে আমদানির লক্ষ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি রয়েছে। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে রাশিয়া থেকে এ চুক্তির আওতায় ইউক্রেন থেকে সর্বশেষ দুই লাখ টন গম আমদানি করা হয়। অক্টোবর মাসে রাশিয়া সরকার বাংলাদেশকে এ গম সরবরাহ করবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে এ গম আমদানি করা হবে।-জাগোনিউজ