রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে মূলধন না দিতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সংসদীয় কমিটির বৈঠকরাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে ভর্তুকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে বলেছে এই সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব কমিটির একটি উপ-কমিটি এ সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশসহ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপ-কমিটি ২৩টি সুপারিশ উপস্থাপন করে। পরে কমিটির পক্ষ থেকে এই সুপারিশমালা সরকারকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব কমিটির বৈঠকে উপ-কমিটি এই প্রতিবেদন জমা দেয়।
বেসরকারি ব্যাংকে প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৩ জন গ্রাহকের ঋণ ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের ওপর পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার জন্য গত বছরের ২২ নভেম্বর ওই উপ-কমিটি করা হয়।
কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা-১০ আসনের শেখ ফজলে নূর তাপস ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান।
সুপারিশের বিষয়ে কমিটির সদস্য বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপ-কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশগুলো একাধিক কপি করে মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন সরবরাহ না করার সুপারিশ প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সুপারিশে ব্যাংকগুলোকে মূলধনের ঘাটতি পূরনে ভর্তুতি দেওয়ার প্রবণতা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে বলা হয়েছে।’
এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, কমিটির সুপারিশমালা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকগুলোর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসান হওয়ার ফলে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে সরকারকে জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের জন্য প্রায়ই ব্যাংক অনুরোধ করে। এ ধরনের ঘাটতি পূরণের প্রবণতা বন্ধ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যেসব ক্ষেত্রে মূলধন ঘাটতিপূরণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের শর্তসাপেক্ষে ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।’
প্রতিবেদনের সুপারিশে যেসব গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের বা ঋণ গ্রহণকারীর ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে কোনও সহায়ক জামানত নেই বা অপর্যাপ্ত জামানত রয়েছে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে, সেসব গ্রাহকের অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি এটাচড করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যাদের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মামলার কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ রয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে মূল মামলার কার্যক্রম দ্রুত চালু করতেও বলা হয়।
ঋণের সব অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারক করতে হবে বলে সুপারিশ করা হয়।
খেলাপি ঋণের সব অর্থ আদায়ের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের যেসব গ্রাহক এলসি দায় পরিশোধ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।
অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ঋণ হিসাবে সংঘটিত অনিয়মের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রচলিত চাকরি প্রবিধানমালার নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিধিতে মামলা করতে হবে।
অগ্রণী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের যে বিশাল অঙ্কের টাকা অনাদায়ী ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তা জনগণের কষ্টার্জিত আমানত। এ বিশাল অঙ্কের অর্থ আদায়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেইল আউট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ভবিষ্যতে কোনও অনুমোদিত ঋণের বিপরীতে অর্থ দেওয়ার আগে উপযুক্ত মূল্যের জমি অথবা অন্যান্য সিকিউরিটি যথাযথভাবে ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রি করতে হবে।
বেসিক ব্যাংক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে যেসব গ্রাহককে ঋণ দিয়েছে, সেসব গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ঋণ আদায়ের স্বার্থে প্রয়জন হলে দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, চেকের বিপরীতে ঋণ দেওয়া ও এলটিআরের বিপরীতে এলসি প্রতিষ্ঠিত না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
একমোডেশন বিলের মাধ্যমে গ্যারেন্টার হওয়ার প্রক্রিয়ায় ঋণ নেওয়া বন্ধ করতে হবে। বোর্ড বহির্ভূত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন যেন না হয়, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, এ বি তাজুল ইসলাম, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, শাহানারা বেগম ও এটিএম আব্দুল ওয়াহহাব। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন