রাসিকের সংকট: রাজনীতির দোহাই দিয়ে অদক্ষতা আড়ালের চেষ্টা?

আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান আর্থিক সংকটকে প্রতিষ্ঠানের চরম অদক্ষতার প্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারি এবং কাউন্সিলররা। তারা বলছেন সরকারি থোক বরাদ্দ ঠিকই আসছে। অতিরিক্ত যা আসার তা কম আসছে। পূর্বের মেয়র এবং পরিষদ তাদের দক্ষতা দিয়ে এ ধরনের সংকট মোকাবেলা করেছে। বর্তমান পরিষদ তা মোকাবেলায় পুরোপুরি অপারগ। সিলেট এবং কুমিল্লাতে বিএনপির মেয়র রয়েছেন। তারা নিজ দক্ষতায় সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহীতে শুধু রাজনীতির দোহাই দিয়ে অদক্ষতাকে ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১০ জুন এসব পরিস্থিতির প্রতিবাদে কাউন্সিলররা পরিষদের সাধারণ সভা বয়কট করেন। মেয়রের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকায় থাকায় এই সভা মুলতবি করা হয়।
৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু বলেন, সিটি কর্পোরেশনে যে সংকট চলছে তা পুরোপুরি ম্যনেজমেন্টের সমস্যা। বর্তমান মেয়রের অদক্ষতার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মচারিদের বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধানে মেয়র এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার চেষ্টা করা হয়। তা না করে সাধারণ সভা করার কর্মসূচি দেয়া হয়। ১০ জুনের এই সভায় অধিকাংশ কাউন্সিলর যোগ দেয় নি। যে কারণে সেদিনের সভা মুলতবি করতে হয়। সংকট সমাধানে মেয়রের সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিরর মনসুর রহমান বলেন, কর্মচারিরা বেতন পায়নি। ঠিকাদারেরা বিল পায়নি। ঈদের আগে পাবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। কবে পাবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। এর মূলে সরকারি অনুদান কমে যাওয়াকে দায়ি করেন তিনি। সিটি কর্পোরেশনের অনেক অনুদান বর্তমানে সাংসদের মাধ্যমে খরচ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর বলেন, কুমিল্লা এবং সিলেটের মেয়রেরা ঠিকই টাকা নিয়ে নিজেদের কর্পোরেশনের সকল কাজ করছেন। রাজশাহীর বর্তমান মেয়র ব্যানার টাঙ্গানো নিয়ে রাস্তায় বসে থাকছেন। মূল কাজ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসন পরিচালনায় তার কোনো আগ্রহ নেই। সব কিছুর মধ্যে তিনি রাজনীতি দেখতে পান।
১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ বলেন, সিটি কর্পোরেশনে যে অসন্তোষ চলছে তা মূলত বেতন ভাতা পরিষোধ না হওয়ার কারণে। অস্থায়ী কর্মচারিদের বেতন মঙ্গল বা বুধবারে হয়ে যাবে। স্থায়ী কর্মচারিদের বেতন ঈদের আগে হচ্ছে না। প্রজেক্টের কর্মীদের বেতন হবে। ঠিকাদারদের বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তির সময়ে বলা হয় অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিল পরিশোধ করা হবে। সে অনুযায়ি যখন টাকা আসবে তখন পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, সোম এবং মঙ্গলবার যে কর্মচারি বিক্ষোভ হয়েছে তা তার ভাষায় ‘ক্রিয়েট করা’। কর্মচারিদের বোনাস দেয়া হয়েছে। বেতনও দিয়ে দেয়া হবে। তাদের বিক্ষোভ দেখানোর কিছু নেই। তারা যে অনিয়মের কথা বলছে। তা ঠিক নয়।