রাসিক-এ বিশৃঙ্খলা নগরবাসী পরিস্থিতির উত্তরণ চায়

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে এখন আর্থিক সঙ্কট চলছে। কর্মচারীরা বেতন ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাসিক এর একজন কর্মকর্তা বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের হাতে লাঞ্ছিতও হয়েছেন। রাসিক জুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। দৈনিক সোনার দেশসহ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে তো বটেই দেশের অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিশৃঙ্খলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য এসব বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে বর্তমান মেয়র ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ আছে বলে দাবি করেন।
কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছেÑ রাসিক এর আর্থিক সঙ্কট উদ্ভবের মূলে মেয়রের অদক্ষতা রয়েছে। এবং অদক্ষতা ঢাকতেই মেয়র ‘রাজনৈতিক রঙ’ লাগাতে সচেষ্ট আছেন। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সরকারি থোক বরাদ্দ ঠিকই আসছে। অতিরিক্ত যা আসার তা কম আসছে। পূর্বের মেয়র এবং পরিষদ তাদের দক্ষতা দিয়ে এ ধরনের সংকট মোকাবেলা করেছে। বর্তমান পরিষদ তা মোকাবেলায় পুরোপুরি অপারগ। সিলেট এবং কুমিল্লাতে বিএনপির মেয়র রয়েছেন। তারা নিজ দক্ষতায় সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহীতে শুধু রাজনীতির দোহাই দিয়ে অদক্ষতাকে ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ১০ জুন এসব পরিস্থিতির প্রতিবাদে কাউন্সিলররা পরিষদের সাধারণ সভা বয়কট করেন। মেয়রের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকায় থাকায় এই সভা মুলতবি করা হয়।
তবে এটা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে যে, প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অদক্ষতার কারণে নগরভবনে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সেটা বুঝতে কারুরই অসুবিধা হয় না যে, নগরভবনেই যখন একজন কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হয় এবং সেই ঘটনার ব্যাপারে রাসিক এর কোনো বক্তব্য-ব্যাখ্যাও নেই। রাসিক এর প্রশাসন ব্যবস্থায় যে ক্রমে ক্রমে ধস নেমেছে তা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে মাত্র। নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও রাসিক বেশ পিছিয়ে পড়েছে। বরং বলা হচ্ছে আগের পরিষদ যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রেখে গিিেছলেন সেটাও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সরকারে পাবলিক প্রতিনিধি হিসেবে যেই-ই আসুন না কেন, তিনি যে কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের হতে পারেনÑ কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সরকারের একটি অংশ হয়ে যান। তার মাধ্যমেই সরকার জনগণের কল্যাণ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করে থাকে। কিন্তু রাসিক এর নেতৃত্ব প্রথম থেকেই সরকারের বিরাগভাজন হয়েছেন এবং সেটি তিনি নিজ কর্মগুণেই হয়েছেন। দায়িত্ব নেয়ার সময় থেকেই তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদার প্রশ্নে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত গাড়ি ব্যবহার থেকে দীর্ঘ সময় বিরত থেকেছেন। রাসিক এর প্রশানিক ভিত্তিকে আরো গতিশীল করার পরিবর্তে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তার উস্কানিমূলক বক্তব্য সহিংসতাকে উৎসাহিত করেছে। সে আন্দোলন ছিল সহিংস এবং যাতে হতাহতের ঘটনাও আছে। তিনি পুলিশ হত্যা মামলার আসামীও বটে। সহিংস আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে রাসিক এর প্রশাসনিক অবস্থার বেশ অবনতি ঘটেছে। একইভাবে আর্থিক কাঠামোও ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে সেই অদক্ষতা, উদাসীনতা বেরিয়ে আসছে। মানুষের অসন্তুষ্টিটাও সেখানেই। নিশ্চয় নগরবাসী সেখান থেকেই উত্তরণের প্রত্যাশা রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ