রাসিক নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলো আচরণবিধি মানতে হবে

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মঙ্গলবার থেকে নিয়মমাফিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতিক বরাদ্দ হয়েছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাঁদের প্রতীক নির্ধারিত থাকায় পূর্বেই পোস্টার, লিফলেট প্রতীক বরাদ্দের আগেই ছাপাতে সুবিধে হয়েছে। মঙ্গলবার প্রচারণা শুরু দিন থেকেই তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার, লিফলেট প্রদর্শনের কাজ শুরু করেছে। এবারেই রাজশাহী সিটি করপোরেনের মেয়র পদের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহীর বাইরেও সিলেট ও বরিশাল সিটিতে নির্বাচন হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি তিন সিটির নির্বাচনে দিকে।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি এবারে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল ও প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর এখন মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৭ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে আছেন পাঁচজন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ইসলামী আন্দোলনের শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আছেন ১৬০ জন প্রার্থী। এছাড়া এসব ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন।
বাংলাদেশে সব ধরনের নির্বাচনই উৎসবের মত। কর্মি-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মিলনমেলায় পরিণত হয় নির্বাচন। রাসিক এর নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। পুরো নগর জুড়েই সব বয়সের, সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যেই নির্বাচনি গুঞ্জন চলছে। অফিস, চা-খানায়, সাধারণ আড্ডায়- এমনকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে ভোটারদের উৎসাহ, কৌতুহল ততই বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে উত্তেজনা আর আলোচনার ঝড়, তর্ক-বিতর্ক। ইতোমধ্যেই সভা-সমাবেশ মিছিল স্লোগানে মুখরিত হতে শুরু করেছে মহানগর। প্রার্থীদের সমর্থনে কর্মিরা দ্বারে দ্বারে ছুটছে, ভোটারদের কাছে সবিনয় ভোট প্রার্থনা করবে। প্রার্থীরাও ঘুম হারাম করে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ে এক কঠিন প্রচারিভাযানে সামিল হয়েছেন।
এসবই নির্বাচনের কিছু চিত্র। এটাই স্বাভাবিক। দেশের মানুষ ভোট উৎসব চায়, কিন্তু কোনোভাবেই অস্বাভাবিক সম্প্রীতি বিনষ্টের মত কোনো ঘটনা প্রত্যাশ্যা করে না। নির্বাচনি আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চললে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ থাকে না। প্রার্থীদের সাংগঠনিক নেতৃত্ব তাদের কর্মি-সমর্থকদের আচরণ বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে নিশ্চয়। এবং সেটি তাঁরা করবেন।
নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ি সিটি নির্বাচন কেন্দ্র করে গণগ্রেপ্তার এবং পুলিশি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। সোমবার বিকেলে দলের নেতাকমীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে রিটানিং অফিসার আমিরুল ইসলামকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
‘গণগ্রেফতার’ শব্দটি ব্যবহারই বলে দেয় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েছে। নগরবাসী নিশ্চয় চোখ-কান বন্ধ করে নেই। গণগ্রেফতারের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। বিএনপি গণগ্রেফতারের কোনো তথ্য বা বর্ণনাও দেয়নি, শুধু অভিযোগই করেছে।
প্রার্থীদের এটা নিশ্চিত করা যথার্থ হবে যে, কোনোভাবেই নির্বাচন যাতে বিতর্কিত না হয়। বিতর্ক সৃষ্টির জন্য যে কোনো ধরনের অপপ্রয়াস নির্বাচনি ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য যেমন, তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও ক্ষতিকর। সে দিকে প্রার্থীদের সবিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ