রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত || আখ চাষে আরও উৎসাহিত হবেন কৃষকরাও

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৭, ১:২২ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তান আমলে করা একটি আইন নিয়ে ঝামেলাই ছিল আখচাষিরা। এতে করে অনেকে আখচাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসলের দিকে চলে গিয়েছিল। এতে করে দেশের আখ চাষে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। সুগার মিল এলাকার যারা চিনি উৎপাদন করবে রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য তাদের কাছ থেকে একটা উপকর নেয়া হত। এই উপকরটা আসলে তেমন কোনো ব্যবহার হতো না। কারণ এখন এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তাঘাট করে ফেলেছে। সুগার মিল কর্তৃপক্ষের আলাদাভাবে রাস্তাঘাট মেরামত করা বা তৈরি করতে হয় না। তাই কৃষকদের হয়রানির কথা চিন্তা করে নীতিগতভাবে আইনটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রি পরিষদ সভা। এ ব্যাপারে মন্ত্রি পরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেছেন, আগে সিরিয়াসলি চিন্তা করা হয়নি। মন্ত্রিসভা যখন পর্যালোচনা করেছে, তখন দেখেছে আইনটির আদৌ প্রয়োজন নেই, কৃষকদের জন্য হয়রানি। কতগুলো উপকর কৃষকদের উপর খামাখা চাপানো, খুব অর্থ যে আসে তা নয়। মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে মত দিয়েছে বাতিল হওয়াই ভালো। পাকিস্তান আমলে প্রণীত অর্ডিন্যান্সকে আইনে পরিণত করতে ‘বাংলাদেশ চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন- ২০১৭’ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় তোলা হয়। এখন ওই অর্ডিন্যান্সটি রহিত করতে এখন একটি আইন সংসদে যাবে, তখন ওটা আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হয়ে যাবে। এতে করে আখ চাষে দেশের কৃষকরা আবার ফিরে আসবেন তাদের আদি চাষে। কারণ এত দিন প্রতি মণ আখের জন্য চাষিদের কাছ থেকে উপকর হিসেবে সুগার মিলগুলো ১২ পয়সা করে কেটে রাখত। সংসদে যাওয়ার পর থেকে চাষিদের এই আইনের আওতায় থাকতে হবে না।
উপকূলীয় অঞ্চলের আখচাষিদের জন্য আরেকটি সুখবর হচ্ছে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু আখের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। নতুন ‘বিএসআরআই আখ ৪৫’ জাতের আখ ওইসব এলাকায় আখ চাষে বিপ্লব ঘটাবে। এ জাতটি উচ্চ ফলনশীল ও চিনিযুক্ত। ফলে এটি চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হবেন চাষিরাও। জাতটির ফলন হবে হেক্টরপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টনের বেশি। জাতটি শুধু খরা ও বন্যাপ্রবণ, লবণাক্ত এবং জলাবদ্ধ এলাকাতেই নয়, দেশের সব অঞ্চলে চাষ করা যাবে। এর মাধ্যমে দেশের চিনি ও গুড়ের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষকের জীবন-মানও উন্নত হবে। আগাম পরিপক্ক আখের এই জাতটি নয় মাস থেকে ১২ মাসের মধ্যে কর্তন করে মাড়াই করতে পারবেন চাষিরা। চাষাবাদে খরচ পড়বে অন্যান্য জাতের আখ চাষের মতোই। অতীতে বেশ কিছু লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের চেয়ে এ জাতটি অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ। ফলে কৃষকরা বেশ উপকৃত হবেন। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত প্রতিকূলতা সহনশীল এ জাতটি খুবই উন্নত। সরকারেরও ইচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলে আখের চাষ বৃদ্ধি পাক। তাই গবেষকরাও বিষয়টি মাথায় নিয়ে এ জাতটি নিয়ে কাজ শুরু করে। এতে সফলতাও ধরা দেয়। তাই সামনে আইন বাতিলের পাশাপাশি সারাদেশে আখ চাষে উৎসাহিত হবে কৃষকরাও।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ