রাস্তা পারাপারে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ২:০১ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম


রাজশাহী কলেজের সামনে এভাবেই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়-সোনার দেশ

রাজশাহী কলেজের ভিতর থেকে মেইনগেইট অতিক্রম করলেই নগরীর ব্যস্ততাম প্রধান সড়ক। এ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে সিগন্যাল দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। উদ্দেশ্য রাস্তাটি অতিক্রম করে ওই প্রান্তে পৌঁছানো কেউ রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে, কেউ বা দুই-পা বাড়িয়ে। কেউ কেউ দাঁড়িয়েই থাকছেন। কেউ বা দৌড়িয়েই পার হচ্ছে রাস্তা। কেননা গাড়ি চালকের যেন সময় নেই, সামনে এসে পড়লে তবেই ব্রেক করবে। পাশে থেকে ধাক্কা দিয়ে চালকদের রক্তচক্ষু ও বাজে মন্তব্য এ যেন সাধারণ ঘটনা। এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেন এবং বাড়ি ফেরেন।
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী, পরপর চারবারের দেশসেরা কলেজ শিক্ষার্থীদের এভাবেই চলাচল করতে হয়। রাজশাহীর অন্যতম প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত রাজশাহী কলেজ। যেই রাস্তা দিয়ে পারাপার করতে হয় এই প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে। অথচ এ রাস্তা নিরাপদ নয়। ছোট-খাটো অনেক দুর্ঘটনা প্রয়াশই ঘটে। যা নিয়ে চিন্তিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। অনেকে প্রকাশ করছেন ক্ষোভ।
রাজশাহী কলেজ উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শাহানারা বেগম বলেন, রাজশাহী শহরের রাস্তা অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক ভালো। তবে কিছুদিন আগে রাস্তায় যৌন হয়রানির মতো ঘটনা ঘটেছে। আমি আশা করি এগুলো যেন কাটিয়ে ওঠা যায়। আমাদের প্রচুর ছেলেমেয়ে রাস্তা পারাপার করে। ওখানে জেব্রা ক্রসিং আছে। কিন্তু কোনো নিয়ম মানা হয় না। আমি অধ্যক্ষ স্যারকে বলেছিলাম, ওখানে দুটো স্পিড ব্রেকার দেয়া হোক। এটা প্রচুর ব্যস্ত রাস্তা এবং প্রচুর জ্যাম থাকে। রাস্তা অরো চওড়া হওয়া দরকার। এখানে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের কলেজের সামনের রাস্তাটি নিরাপদ নয়। আমরা সিগন্যাল দেয়ার পরও গাড়ি থামান না চালকরা। রাস্তার পাশে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কখনো রাস্তার অর্ধেক পার হয়ে আবার দাঁড়াতে হয়। তখন অনেক চালক ও বখাটেরা যৌন হয়রানি করে। অনেকে গাঁ ঘেষে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমাদেরকেই রক্তচক্ষু দেখায়।
ট্রফিক পুলিশদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। কেননা তারা সিগন্যাল দেয়ার পরেও অনেক চালক সিগন্যালের পরোয়া করে না। কিন্তু সিগন্যাল ভঙ্গের জন্য আইনি কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। সর্বোচ্চ একটা ধমক দিতে দেখা যায়।
রাস্তা পারাপারে এমন পরিস্থিতি নজরে আসে কলেজ প্রশাসনের। নেয়া হয় ট্রাফিক সপ্তাহ পালনসহ কলেজের সামনে দুটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণের উদ্যোগ। নির্মাণ করা হয় দুটি স্পিড ব্রেকার। তবে তা আর কাজে আসেনি। নির্মাণের কিছু দিন পর সিটি করপোরেশন স্পিড ব্রেকার দুটি ভেঙে দেয়।
রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা দুটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করলাম। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে বলা হলো যে, এ রাস্তায় ডিভাইডার রাখা যাবে না। এখন আমাদের আর কিছু করার নাই। ওটা তো ভেঙে ফেললো। এখন ওখানে একটা ফুট ওভার ব্রিজ দরকার। আমরা মেয়রের সাথে কথা বলে একটি ওভার ব্রিজের দাবি জানিয়েছি। ওনারা আশ^াস দিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ এটা করবেন এটা বলেন নি।
প্রতিদিনই এমন ভোগান্তি নিয়ে কলেজে যাতায়াত করছেন কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুতই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।
( লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ