রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল এবং রিজভীর দ্বিমুখী সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা। দলের পরবর্তী কার্যক্রম কেমন হবে তা নিয়ে বিভিন্ন সিনিয়র নেতার কাছ থেকে পাওয়া গেছে বিভিন্ন রকমের বক্তব্য।
রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বলেন এবং কোন প্রকার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের প্রতিবাদে ৯ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নামাজের পর সারাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। দলের প্রতি খালেদা জিয়ার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ কোনো ধরনের সহিংস এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ধৈর্য ধরতে হবে।‘ তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
পক্ষান্তরে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর রায়ের প্রতিক্রিয়ার বক্তব্যে পাওয়া যায় পুরো ভিন্ন সুর। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রায়ের প্রতি অসম্মান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলনের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন ‘ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের আহ্বান করছি সারা বাংলাদেশে আপনারা আন্দোলন করুন। আপনারা এগিয়ে আসুন রাজপথে। আপনারা বুলেট গ্রহণ করুন।’
উল্লেখ্য, একই সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র দুই নেতার দুই রকম বক্তব্য সৃষ্টি করে এক বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ফখরুলের বক্তব্যে নির্দেশ পাওয়া যায় সব রকম সহিংসতা থেকে দূরে থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবার আর রিজভী নির্দেশ দেন রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন করতে।
জনমনে তাই প্রশ্ন, ‘তাহলে জরুরি এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য কি দ্বিমুখী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো?’