রিট খারিজ তবুও মান্দার বালুমহাল নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি

আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

মান্দা প্রতিনিধি


নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর বালুমহাল (উজান অংশ) নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। কামাল হোসেন নামে একব্যক্তি ইজারা ছাড়াই উচ্চ আদালতে দফায় দফায় রিট পিটিশন দিয়ে গত দেড় বছর ধরে বালুমহালটি কব্জায় রেখেছেন। অবৈধ পন্থায় তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এ অবস্থায় গত ২৯ অক্টোবর উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে।
এরপরও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন কথিত ইজারাদার কামাল হোসেন। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে তাকে এ কাজে সহযোগিতা করে চলেছেন। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ গত ২৯ অক্টোবর শুনানি অন্তে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন। বিষয়টি অবহিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পত্র দেয়া হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইং রিট শাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
মান্দা উপজেলার দোসতি গ্রামের বালু ব্যবসায়ি ময়নুল ইসলাম জুয়েল জানান, আদালতের অনুমতিক্রমে ইজারাদার কামাল হোসেনের দায়েরকৃত রিট মামলায় সরকার পক্ষের সঙ্গে তিনিও বিবাদি ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ ওই রিট মামলাটি খারিজ দেন। অবিলম্বে আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল অবৈধ দখলমুক্ত করতে গত ২ নভেম্বর ইউএনও মান্দাসহ সংশ্লিস্ট দফতরে আবেদন দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিট খারিজের পর ১১ দিন পেরিয়ে গেছে। তবুও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। প্রশাসনের গাফলতির কারণে এ বালুমহাল থেকে গত দেড় বছরে সরকার অন্তত ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল ১৪২২ সনে ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৫২৩ টাকায় (ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া) ইজারা গ্রহণ করেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী এলাকার কামাল হোসেন। ইজারামূল্য পরিশোধ করলেও ভ্যাট-আয়কর না দিয়েই তিনি ওই বছরের ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল ২০১৫) থেকে বালু উত্তোলন ও নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে বিক্রি শুরু করেন। বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেই তিনি ২০১৫ সালের ৫ ও ১০ মে বালুমহাল বুঝে নেয়ার জন্য মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন।
এদিকে চতুর ইজারাদার কামাল হোসেন ইজারা প্রাপ্তির ৯ মাস পর তথ্য গোপন করে ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বালুমহালটি বুঝে নেয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দফায় দফায় রিট করে সময় বাড়িয়ে নেন। এভাবে এক ইজারার মাধ্যমে আড়াই বছর ধরে তিনি বালুমহালটি কজ্বায় রেখেছেন।
এদিকে রিট মামলা খারিজের পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার কথা স্বীকার করেছেন বালুমহালের ইজারাদার কামাল হোসেনের শেয়ারপার্টনার আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে কোন আদেশবলে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তা জানাতে অস্বীকার করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, বিবাদি পক্ষের একজনের কাছ থেকে এরকম একটি আদেশ পাওয়া গেছে। কিন্তু আদালত থেকে সরাসরি এখনও ওই ধরনের কোনো পত্র পাওয়া যায় নি। তারপরও বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত চিঠিটা আদালতের কিনা নিশ্চিত হয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুজ্জামান বলেন, দাফতরিকভাবে এ ধরনের কোনো পত্র এখনও পান নি তিনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ