রূপপুরে দুর্নীতি ৬২ কোটি টাকা, দায়ী ৩৪ প্রকৌশলী: তদন্ত

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও উঠানোয় ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই দুর্নীতির এই চিত্র দিয়ে এর জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়েছে।
হাই কোর্টের নির্দেশে গত সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুটি প্রতিবেদনই জমা দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; সেগুলো রোববার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। রিটকারী পক্ষে ছিলেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রূপপুর গ্রিন সিটি প্রকল্প’র নির্মাণাধীন ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও উত্তোলন কাজে ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়ম হয়েছে।
“এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী চারটি ভবনের আসবাব ও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স সরবরাহ কাজের জন্য ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।”
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পাবনা ও রাজশাহীর পূর্ত বিভাগের ৩৪ জন প্রকৌশলীকে এই দুর্নীতির জন্য দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি।
অপর তদন্ত প্রতিবেদনেও দুর্নীতির একই হিসাব দিয়ে এই কর্মকর্তাদেরই দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না তা জানাতে পারেননি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আসবাবপত্রসহ সরঞ্জাম কেনাকাটায় ‘দুর্নীতির’ বিচার চেয়ে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বালিশ বিক্ষোভ’। অভিযোগ উঠেছে সেখানে প্রতিটি বালিশ কেনা হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়।
রোববার আদালতে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর রিটকারী আইনজীবী সুমন বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা চান।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তারিক উল হাকিম বলেন, “যেহেতু দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে তাই আমরা অপেক্ষা করে দেখতে চাই, কী ব্যবস্থা নেয়। নিশ্চই সরকার ব্যবস্থা নেবে। দেখি কী হয়…।”
তখন ওই আইনজীবী বলেন, “তার জন্য তো আমরা অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে পারি না। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ থাকলেও বলা নেই কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা বলা নেই।
“তাছাড়া এ দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ ভিকটিম না থাকলেও রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে। কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থাই যথেষ্ট না। দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা আদালত দিতে পারে।”
এ সময় আদালত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, “প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সময় দেয়া প্রয়োজন। দুই মাস সময় অন্তত দেয়া হোক।”
পরে আদালত আগামী ২০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন রাখেন।
রূপপুর গ্রিন সিটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও ভবনে উত্তোলন কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে গত ১৯ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন-২) মো. মুরিুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে আরও দুজন সদস্য কো-অপ্ট করা হয় ওই কমিটিতে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ