রূপপুর প্রকল্পের চাররাস্তা মোড়সহ ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক ।। সম্মেলনের ১২ দিন পরেও সরানো হয় নি

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সামনের চার রাস্তা পাকার মোড় থেকে এখনো সরানো হয় নি যুবলীগের অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও তোরণ। মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি যানবাহনসহ সাধারণ মানুষও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
শুধু রুপপুর মোড়েই নয়, ঈশ্বরদী উপজেলা পৌর যুবলীগের কাউন্সিল ১২ দিন আগে সম্পন্ন হয়ে গেলেও ঈশ্বরদীর বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে অবৈধভাবে নির্মিত তোরণগুলো সরানো হয় নি এখনো। দলীয় নেতা-কর্মী সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন গত ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে ৯টি তোরণ নির্মাণ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট, পোস্ট অফিস মোড়, আলোবাগ মোড় ও আলহাজ মোড়ে চারটিসহ ঈশ্বরদী ইপিজেডের সামনে, ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কের দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, পাকশীর রুপপুর চার পরমাণু বিদ্যুত প্রকল্পের সামনে চার রাস্তার মোড়, দিয়াড় বাঘইলে এসব বড় বড় সাইজের তোরণগুলি দাঁড়িয়ে আছে। তোরণ ছাড়াও শহরের সব এলাকায় এখনো নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার ঝুলছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিপণি বিতান, ট্রাফিক আইল্যান্ড, বিভিন্ন ভবনের দেয়াল ও গাছের ডাল কিছুই বাদ যায় নি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের দুই পাশ ও মাঝখানে খুঁড়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে যেমন অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ঈশ্বরদী ইপিজেডের কর্মী সালেহা খাতুন বলেন, তিনি ভটভটিতে করে কর্মস্থলে আসেন। ইপিজেডের সামনের প্রচন্ড ব্যস্ততম রাস্তায় ঢুকতে গেলে প্রায়ই তোরণের সঙ্গে ভটভটি ধাক্কা খায়। এতে অনেকে ভটভটি থেকে ছিটকে পড়েও যান। ঈশ্বরদী বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, শহরের সব সড়কে শুধু ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার আর তোরণ। গাড়ি বা রিকশায় করে আসার সময় ভয় লাগে, কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্ল¬ব বলেন, সম্মেলনের কারণে নেতাকর্মীরা উৎসাহী হয়ে এগুলো লাগিয়েছেন। যুবলীগের পক্ষ থেকে কিছু করা হয় নি। পথচারীদের অসুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আমরা দুঃখিত। এগুলো আমরা খুলে ফেলতে চেয়েছি। তবে ১০ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলন। তাই সেই পর্যন্ত একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে।’ এদিকে সড়ক-মহাসড়কে ওই তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার-ফেস্টুন লাগানোর জন্য পৌরসভা বা প্রশাসনের সংশ্লি¬ষ্ট কারও অনুমতি নেয়া হয় নি। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রকৌশলী মোঃ শাকিল মাহমুদ বলেন, অনুমতি না নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো বেআইনি কাজ। পৌর এলাকার মধ্যে এগুলো করা হলে পৌরসভা সেটি সরানোর ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লি¬ষ্ট ব্যক্তিদের বলবেন।
ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মালিথা বলেন, দলের সিদ্ধান্তে এগুলো লাগানো হয় নি, জনগণের চলাচলে অসুবিধা হয় এমন কিছু করা উচিত নয়।