রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের সংবাদ সম্মেলন ক্ষতিপুরণ না দিলে জাতীয় কৃষি পদক ফেরত দিয়ে আত্মহত্যার ঘোষণা

আপডেট: জুন ১০, ২০১৮, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে চাষাবাদকারী কৃষকদের ক্ষতিপূরণের প্রায় ২৮ কোটি টাকা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রদান না করা হলে কৃষকরা তাদের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ফেরত দিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কৃষকদের পাওনা টাকা ফেরত না দিলে ঈশ্বরদীর ইউএনওকে বিদায় করতে লাগাতার উপজেলা পরিষদ কার্যালয় অবরুদ্ধ করার আল্টিমেটাম ঘোষণা করে তারা। গতকাল শনিবার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর বিবিসি বাজারে শত শত কৃষক-কিষাণীর অংশগ্রহণে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষকরা এসব আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল হাশেম। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষক রেজাউল ইসলাম মহিদুল। প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য দেন সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ। এসময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত জাতীয় কৃষকদের মধ্যে আশরাফ আলী খান ডুবুরি, হাবিবুর রহমান হাবিব, বেলি বেগম, রবিউল ইসলাম, আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা তাদের গলায় ঝোলানো বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদর্শন করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান না করলে এই পদক সরকারকে ফিরিয়ে দিয়ে ঈদের পর আত্মহত্যার প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন তারা।
এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃষকরা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য তাদের চাষাবাদ করা জমি অধিগ্রহণ করার পর থেকে এই এলাকার শত শত কৃষক এক প্রকার বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করতে সময়ক্ষেপণ করায় তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা ৯ শ ৯০ একর জমিতে চাষাবাদ করা কৃষকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও রূপপুর প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন গড়িমসি করে কৃষকদের টাকা প্রদান করছেন না বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-মামুন বলেন, কৃষকদের তালিকা নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে, এ কারণে আমরা তালিকা যাচাই বাছাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করবো। যাচাই বাছাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে টাকা প্রদান করা আইনসিদ্ধ নয় বলেই একটু সময় লাগছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।