রেলের উন্নয়নে রাসিক মেয়রের ডিও লেটার রেলমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

রেলপথে ভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও রেলপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সক্ষম। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রটি এখনো অনেক সংকুচিত। কিন্তু ট্রেনে ভ্রমণের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে ট্রেনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাদের কাছে ভ্রমণের প্রথম পছন্দই হলো ট্রেন। বর্তমানে ইন্টারসিটি ট্রেনগুলোতে টিকিট পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ‘ সোনার হরিণ’।
তদুপরি স্বাধীনতার পর ট্রেনের উন্নয়ন যে ভাবে হওয়ার কথা ছিল সে তুলনায় কিছুই হয় নি। কিন্তু আশার কথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বর্তমান সরকার ট্রেনের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করছে। নতুন রেলপথ তৈরি হয়েছে, ইন্টার সিটি ট্রেনের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারতের সাথে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। রেলপথের উন্নয়নে সরকারের মাহপরিকল্পনাও আছে।
গণপরিবহণ হিসেবে ট্রেনের কোনো তুলনাই হয় না। ট্রেনে যত বেশি যাত্রী পরিবহণ করা যায় অন্য কোনো যানবাহনে তা সম্ভব নয়। ট্রেন অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাংলাদেশে ট্রেন এতোদিন অবহেলিত হয়ে ছিল। এখন প্রত্যাশা ট্রেনের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন। ট্রেন যাত্রী পরিবহণ করবে যেমন, তেমনি দেশের এক প্রাপ্ত থেকে অপর প্রান্তে দ্রুত পণ্য পরিবহণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য অবশ্যই প্রয়োজন রেলপথের উন্নত ব্যবস্থাপনা। আর এ জন্য সর্বাগ্রেই যেটা দরকার তা হলো- ডাবল রেলপথ তৈরি করা।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাজশাহী অঞ্চল বেশ পিছিয়ে আছে। এ অঞ্চলের রেলপথের উন্নয়ন খুব সামান্যই হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের দাবিও অনেক পুরানো- তারা চায়, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে এদিকে চাঁপাই নবাবগঞ্জের রহনপুর একং ওদিকে মংলা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ডাবল রেলপথ নির্মাণের। রাজশাহীর সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ইতোমধ্যে আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ্ব্রডগেজ রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তিনি রেলমন্ত্রীর সাথে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবারও করছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডিও লেটার প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন রেলমন্ত্রী। রেলমন্ত্রীকে দেয়া ডিও লেটারে মেয়র লিটন উল্লেখ করেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা যত বেশি ভালো হবে শিল্পের প্রসারসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত বেশি গতিশীল হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রেলপথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে রাজশাহী’র সাথে রাজধানীর সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।’
মাননীয় মেয়রের সাথে আমরাও সহমত পোষণ করি যে, রেলের উন্নয়ন মানেই অর্থনীতিতে সামগ্রিক উন্নয়ন। রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ রেলের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন প্রত্যাশা করেন। রেলমন্ত্রীর নির্দেশনা যথাশিগগিরই বাস্তবায়িত হবে সে প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ