রোজনামচা

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৮, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

অয়ন চট্টরাজ


সকালে উঠিয়া আমি; মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি ।
কিন্তু দ্যাখো; ভাল হয়ে, চলার ব্যাঘাত কত,
চেঁচামেচি, তাড়াহুড়ো, মেজাজ থতমত ।
ব্যাগটা গোছাও; চুল আঁচড়াও; ক্রিম মেখেছ মুখে?
দুধটা কেন শেষ হয়নি? জল কেন রে চোখে?
বিছনা বালিশ রইলো পড়ে, গোছাসনি কো মোটে
মাথায় শুধুই লম্বা হলি; বুদ্ধি নাই রে ঘটে?

বলনা বাবা, মাকে আমার, শান্ত হয়ে বসতে,
দেখছিস কি ? সুয্যি টাও, জাগছে কত আস্তে?
টিকটিকিটার লেজ খসছে, দেখনা নজর করে;
কালকেই তো দিব্যি ছিল, ঘুরছিল ঐ ঘরে ।
মরচে রঙা লাল জিনিয়ায়; বেগনি রঙের ছাপ,
দুধের সরে, দেখতো কেমন, তানজানিয়ার ম্যাপ!
বন শালিখের পাসটিতে, ঐ ছোট্ট মতন ছানা;
জানিস কি তুই? পাক্কা দুমাস লাগলো মেলতে ডানা।
এক মাসেতেই ভাঙল গুটি , উড়ল প্রজাপতি;
দেখনা তবু, দুজনেতেই, এক আকাশের সাথী।
সময় নিয়ে সবাই কেন, করে হুড়ো মুড়ি?
আমার সময় আমার কাছে; আমিই আমার ঘড়ি।

চায়ের কাপে মুখ পুড়িয়ে, বলি তারে চেয়ে;
এত্তো সব শিখলি কবে? এটটুকনি মেয়ে!
বললো মেয়ে, ‘গেল বারে ; ইলামবাজার পথে,
মনে পড়ে এই সকালেই; দাদাই ছিল সাথে’ !
তোর বাবা যে বলল আমায়- ‘দিলাম তোকে মন্ত্র;
নাতনি-তুই খুব নাম কর; হোস না শুধু যন্ত্র’।