রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ অপারেটরদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হোক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
মন্ত্রীর নির্দেশে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে টেলিযোগাযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের শুরু থেকেই মোবাইল সুবিধা প্রদান না করার জন্য সব মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর হাতে সিম ও রিম ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়।
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ২৫ আগস্ট কুতুপালংয়ে এক বিশাল সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আরেকটি রাষ্ট্রের আশ্রিত জনগোষ্ঠীর এই সমাবেশ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আর এই বিশাল সমাবেশ সফল করতে মোবাইল ফোনের কার্যকর ব্যবহার হয়েছে। মূলত ওই সমাবেশ অনুষ্ঠানের পর থেকেই বিষয়টি সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তোলে- যদিও সরকারেরর পক্ষ থেকে তেমনটি বলা হচ্ছে না। সংবাদ মাধ্যমে খবর অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ওই সমাবেশ স্থানীয়রা নিজেদের জন্য থ্রেট হিসেবেই দেখছে। কেননা এখন সেখানে স্থানীয়রাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে আশ্রিত রোহিঙ্গারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দাল খুনোখুনি আছেইÑ সেই সাথে দ্বন্দ্বটা স্থানীয়দের সাথেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে রোহিঙ্গাদের হাতে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা এখন সব দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবসন আরো বিলম্বিত হলে বাংলাদেশের জন্য তা নিরাপত্তা ঝুঁকি সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিও দানা বেধে উঠছে। সেই মানসিকতা থেকেই রোহিঙ্গাদের হাতে হাজার হাজার মোবাইল সিম চলে গেছে। এটা কি করে সম্ভব হলো? যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া সিম নিবন্ধন হওয়ার কথা নয়Ñ তা হলে রোহিঙ্গারা কীভাবে সিম বা রিম পেল? এই প্রশ্নটির উত্তর পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপর্ণ। যে সব অপারেটর সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রোহিঙ্গাদের সিম সরবরাহ করেছে তাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। শুধু মাত্র ব্যবসার জন্য দেশের নিরাপত্তাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। মন্ত্রী সাত দিনের মধ্যে মোবাইল সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি এখানেই শেষ যেন না হয়। অপরারেটরগুলো কোন ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের সিম বা রিম সরবরাহ করলো সেটা তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ