রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের বিষফোড়া! স্বদেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

আশংকাটা প্রথম থেকেই করা হচ্ছিল যে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবসন বিলম্বিত হলে বাংলাদেশ নানাভাবে সামাজিক সমস্যার সম্মুখিন হবে। বর্তমানে পরিস্থিতিটা তেমনইÑ রোহিঙ্গারা এখন বিষফোড়া হয়ে উঠেছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গারা ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারে তাদের মধ্যে বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। চলছে অস্ত্রের মহড়াও। চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে খুন হয়েছেন ৩৮ রোহিঙ্গা। বাড়ছে অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধও। এছাড়া বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়া কিংবা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ প্রতিদিন ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, ক্যাম্প ত্যাগ করে নানাভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বা জেলার চেকপোস্টগুলোতে আটক হয়ে গত দেড় বছরে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে থাকে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে অসহায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থান দেয়। তারপর প্রায় ২২ মাস অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান হয় নি। অদূর ভবিষ্যতে হবে- এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। সমস্যাটিকে মায়ানিমার সরকার কোনো পাত্তা দিচ্ছে না, বিশ্ব অভিমতকে উপেক্ষা করেও। জাতিসংঘের তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদনে মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মত নৃশংসতার কথার উল্লেখ করেছে। তদুপরি পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নি। আলোচনা এখনো হচ্ছে। বাংলাদেশে ইদানিং কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করেছে যাতে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে রাজি হয়।
মিয়ানমারের সীমানার অদূরে, বাংলাদেশের কক্সবাজারের গাদাগাদি করে বাস করে ৯ লাখ ১৯ হাজার রোহিঙ্গা। পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আশ্রয় শিবির। পার্শ্ববর্তী টেকনাফ ও উখিয়াতেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্যাম্প। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগ, প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা এসেছেন ২০১৭ সালের আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনে বড় মাপের সহিংসতা শুরু হবার পর। বাকিরা পাড়ি দিয়েছিলেন আগেই, বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এড়াতে।
কিন্তু মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করে এখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানামূখি সমস্যার মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ। সামাজিক অপরাধ থেকে রাজনৈতিক অপরাধেও রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের খুব সহজেই সামাজিক অপরাধের সাথে জড়ানোও সম্ভব হচ্ছে। ভারতের পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গাদের সহিংসতার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সমস্যা যদি এ রকম ঝুলেই থাকে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কররূপে খারাপের দিকে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের বেপরোয়াভাবে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়াটা স্থানীয় জনসাধারণের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরো নতুন নতুন সমস্যা ও সঙ্কটের সম্মুখিন হতে হবে। আর রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে উস্কানি দেয়ার মত লোকের অভাবও নেই। বাংলাদেশ কূটনৈতিক ত্যপরতায় জোর দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দেশেই যাচ্ছেন রোহিঙ্গা ইস্যুটি সামনে আনছেন। পরিস্থিতির উন্নয়নে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরৎ পাঠানোর চুক্তি বাস্তবায়নই এর একমাত্র সমাধান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ